নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: প্রতিবেশী যুবকের লালসার শিকার ১২ বছরের নাবালিকা। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে ইংলিশবাজার ব্লকের যদুপুর অঞ্চলে। অভিযুক্ত যুবকের নাম রবিউন সেখ। ঘটনার পর ভিনরাজ্যে পালিয়ে গিয়েও অভিযুক্তের শেষ রক্ষা হয়নি। ইংলিশবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, রবিবার দুপুরে মেয়েকে ফুঁসলিয়ে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যায় রবিউল। সেখানেই অভিযুক্ত নাবালিকাকে যৌন হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার কিছুক্ষণ পর নাবালিকা তার নিজের বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ির লোকেরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ইংলিশবাজার থানায় একটি খবর আসে যে ১২ বছর বয়সি নাবালিকার উপরে যৌন হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এই খবর পাওয়া মাত্রই অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। এদিকে দুপুরে ঘটনাটি ঘটার পর নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা তাঁর মেয়েকে নিয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যান। পুলিশের তরফে নির্যাতিতার বাবাকে থানায় ডেকে ঘটনার অভিযোগ নেওয়া হয়। মালদহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মাকসুদ আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা অ্যাডিশনাল এসপি এবং ডিএসিপির অধীনে একটি তদন্তকারী দল গঠন করে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করি। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও, নির্যাতিতার পরিবারের তরফে অনেকটা দেরিতে থানায় খবর দেওয়া হয়। এরফলে অভিযুক্ত যুবক ততক্ষণে মালদহ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। রাতে নিজেদের বিভিন্ন সূত্র মারফত পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্ত পাশের জেলা বিহারের পূর্ণিয়াতে গা ঢাকা দিয়েছে। সোমবার ভোরে মালদহ পুলিশের একটি টিম তাকে পূর্নিয়া থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে।
এদিনই ধৃতকে মালদহ আদালতে পেশ করা হয়। কিন্তু এদিন আদালতে ছুটি থাকায় ধৃতকে জেল হেপাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে সরাসরি পকসো কোর্টে হাজির করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতকে আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আর্জি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।