• দিদিকে ভালোবাসি: শতাব্দী, রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথমবার জেলায় সাংসদ
    বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথমবার নিজের লোকসভা কেন্দ্র বীরভূমে পা রাখলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। তবে চারবারের সাংসদের এই আগমন অন্যান্যবারের মতো কর্মী-সমর্থকদের উল্লাসের মধ্য দিয়ে হল না। কার্যত লুকিয়ে, সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে চুপিচুপি জেলায় এলেন সাংসদ। সোমবার বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চেপে রামপুরহাটে নামেন তিনি। সেখান থেকে তড়িঘড়ি গাড়িতে চেপে সিউড়িতে এসে জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তনের পর শতাব্দীর এই ‘চোরাগোপ্তা’ জেলা সফর নিয়ে শোরগোল পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের কটাক্ষ, চারবারের সাংসদকে যখন আত্মগোপন করে নিজের এলাকায় ঢুকতে হয় তখন বুঝতে হবে পায়ের তলার মাটি কতটা সরেছে।

    হঠাৎ কেন এই ‘গোপন’ সফর? শতাব্দী জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসার কোপে পড়া তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁর এই আকস্মিক আগমন। বিজেপির বর্তমান জমানায় জেলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপর লাগাতার আক্রমণ, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি চলছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে জেলার পুলিশ সুপারের কাছে দরবার করেছেন শতাব্দী। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যে কর্মীদের জন্য শতাব্দীর এই হঠাৎ ‘দরদ’, সেই কর্মীরা কি আদৌ তাঁর সঙ্গে আছেন? কয়েক সপ্তাহ আগেই শতাব্দীর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে গিয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে তিনি সহ ২০জন সাংসদ দলত্যাগ করেছেন। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা যোগ দিয়েছেন নতুন দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায়। ২০০৯সাল থেকে যে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের ভোটে জিতে তিনি আজ দিল্লির অলিন্দে পৌঁছেছেন, সেই দলকেই চরম সংকটে ফেলে মাঝরাস্তায় দলবদল করায় কর্মীরা এখন শতাব্দীকে ‘বেইমান’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। যদিও শতাব্দীর সাফাই, ‘বিজেপির অত্যাচারের শিকার হওয়া ঘরছাড়া সাধারণ কর্মীদের পাশে আমি সবসময় আছি।’

    ভোট মেটার দীর্ঘ দু’মাস পর কেন সাংসদের জেলা সফর? এতদিন তবে কেন তিনি কর্মীদের খোঁজ নেননি? রাজনৈতিক মহলের দাবি, কর্মীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়েই এতদিন জেলা এড়িয়ে চলেছেন তিনি। এমনকি এদিনও তাঁর চুপিচুপি আসা এবং লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। সাধারণ মানুষের কথায়, ‘ডিম থেরাপি’ বা গণবিক্ষোভের ভয়েই শতাব্দী সাধারণের সামনে আসার সাহস পাননি।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শতাব্দী বলেন, আমরা নতুন দল এনসিপিআইতে আছি। দিদির সঙ্গেও আছি। দিদিকে ভালোবাসি। একদিকে দলত্যাগ করে বিরোধী শিবিরে নাম লেখানো ও দিদিকে ভালোবাসার কথা বলে পুরনো রসায়ন বজায় রাখার এই অদ্ভুত কৌশলকে শতাব্দীর ‘রাজনৈতিক চাল’ বলেই মনে করছে রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। তবে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে তিনি দায়সারাভাবে বলেন, সবে তো কাল ঘটনাটি ঘটেছে। যে ঘটনা ঘটেছে, আইন অনুযায়ী দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত এবং তারা শাস্তি পাবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।
  • Link to this news (বর্তমান)