হোর্ডিং সরাতে শুরু করল বিজেপি, বাদ পড়ল না মোদি-শুভেন্দুর ছবিও
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে।’ বিধাননগরের দিকে তাকালে কবি শঙ্খ ঘোষের এই বিখ্যাত লাইন যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। বৈধ হোর্ডিংয়ের চেয়ে অবৈধের পরিমাণই বেশি। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের সঙ্গে দিনের পর দিন পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনও। শুধু ভোটের সময় নয়, ভোটের পরও নেতাদের ছবিতে ছয়লাপ শহর। শহরের মুখ তাতে ঢেকে গিয়েছে। এবার শহর পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নিল বিজেপি। শুরু হল সমস্ত ধরনের হোর্ডিং সরানোর কাজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া হোর্ডিংও সরাচ্ছেন বিজেপি কর্মীরা। লেকটাউনের বাঙুর থেকে শুরু হয়েছে এই নয়া অভিযান। চলবে বিধাননগর বিধানসভাজুড়ে। বিজেপির এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে খুশি এলাকার বাসিন্দারা।
সল্টলেক থেকে বাঙুর, দমদম পার্ক থেকে লেকটাউন, রাস্তার দু’ধার হোর্ডিংয়ে ছয়লাপ। বিদ্যুতের খুঁটি, ডিভাইডারের গ্রিল, বাতিস্থম্ভ, বাদ নেই কিছুই। বিজেপির অভিযোগ, নেতাদের ছবি দিয়ে হোর্ডিং কালচার শুরু করেছিল তৃণমূল। আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে লেখা হত, সততার প্রতীক। তারপর যেখানে যা হয়েছে সবই তাঁর ছবি দিয়ে ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা’ লেখা হত। লেকটাউনে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ছবিও ছয়লাপ। তাঁর জন্মদিনেও বিশাল আকারের হোর্ডিং টাঙানো হত। ঝড়-বৃষ্টিতে তা না ভাঙলে পরের জন্মদিন পর্যন্ত থেকে যেত সেগুলি।
সোমবার বিজেপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হন লেকটাউন সংলগ্ন বাঙুরে। সেখানে একের পর হোর্ডিং খুলতে শুরু করেন। মোদি-শুভেন্দুর ছবি দেওয়া একটি হোর্ডিংও খুলতে দেখা যায়। সেটি জনকল্যাণ শিবিরের হোর্ডিং। বিজেপির দাবি, ১৫-১৭ জুনের জন্য ওই হোর্ডিং দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচি হয়ে গিয়েছে। তাই খোলা হল। আমাদের দল বলে ছাড় নেই। কিন্তু পুরসভার কাজ বিজেপি কর্মীরা করছেন? বিধাননগরের বিজেপি নেতা ও বারাসত সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য বলেন, বাঙ্গুর অঞ্চলটি দক্ষিণ দমদম পুরসভার। এলাকার কাউন্সিলার উধাও। পুরসভায় কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিজেপি কর্মীরাই এই দায়িত্ব পালন করছেন। বিধাননগরের বিধায়ক ও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে পরিচ্ছন্নতার এই কাজ শুরু হয়েছে। আমাদের দলের, প্রশাসনের যে হোর্ডিংগুলি পুরনো সেইগুলিও খুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, হোর্ডিং দিলেও কর্মসূচি পেরিয়ে গেলে বা অনুষ্ঠান হয়ে গেলে যেন খুলে দেওয়া হয়। বিধাননগরজুড়ে এই কর্মসূচি চলবে।