• মহিলা মণ্ডল সভাপতির মুখে ঘুসি, অভিযুক্ত বেহালা পূর্বের বিজেপি বিধায়ক
    বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূল আমলের শেষ পাঁচ বছরে মাঝেমধ্যেই শিরোনামে উঠে আসত একটি শব্দবন্ধ—‘শাসক দলের গোষ্ঠীকোন্দল’। তারপর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এখন বিজেপি রাজ্যের শাসক দল। নয়া জমানায় ফের চর্চায় শাসকের গোষ্ঠীকোন্দলই! আর তা শুধু বচসা বা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকল না! অভিযোগ, বিজেপির মহিলা মণ্ডল সভাপতির মুখে সরাসরি ঘুসি মেরেছেন বিজেপি বিধায়ক ও তাঁর শাগরেদরা। রবিবার মধ্যরাতে বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ঘটনা। এই কেন্দ্রের ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি ডালিয়া ঘোষ বসুকে স্থানীয় বিধায়ক শংকর সিকদার ও তাঁর দলবল মারধর করে বলে অভিযোগ। জেমস লং সরণির উপর মধ্যরাতে কার্যত রণক্ষেত্র তৈরি হয়। আরও অভিযোগ, পুলিশের সামনেই মারধরের ঘটনা ঘটে। সোমবার বিধায়কের বিরুদ্ধে ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন পেশায় আইনজীবী ডালিয়াদেবী। 

    ঠিক কী ঘটেছিল? শীলপাড়ার কাছে জেমস লং সরণির উপর ‘আবাহন’ নামে কলকাতা পুরসভার একটি কমিউনিটি হল আছে। রাতে সেখানে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠান শেষে সাজের উপকরণ খোলার কাজ করছিলেন শুভ মণ্ডল ও তাঁর বাবা লাল্টু মণ্ডল। এলাকায় তাঁরা বিজেপি কর্মী তথা ডালিয়াদেবীর অনুগামী হিসাবে পরিচিত। অভিযোগ, তাঁদের কাছে সাজের জন্য ব্যবহৃত কাঠ ও লোহার কয়েকটি বাটাম চান স্থানীয় কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। রাত ২টোর সময় এসব কী কাজে লাগবে? মণ্ডল সভাপতির দাবি, পাঁচ-ছ’জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক জানায়, তারা তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস ভাঙতে যাবেন। তার জন্য সেগুলি দরকার। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করেন শুভ, লাল্টুরা। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বিজেপি কর্মীরা তাঁদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে রাতেই ‘আবাহন’-এ পৌঁছান ডালিয়া। তাঁর দাবি, মারধরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তাদের নিরস্ত করতে না পেরে ১০০ ডায়াল করে ঠাকুরপুকুর থানায় বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে হাজির হয় পুলিশ। চলে আসেন স্থানীয় বিধায়কও। তিনি এসে পৌঁছাতেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ, বিধায়ক ও তাঁর শাগরেদ বাদল দুয়ারি, তপন মণ্ডলরা এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। ঘুসি মারা হয় মণ্ডল সভাপতির মুখে। তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ। 

    রাতেই এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে যান ডালিয়া। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সোমবার সকালে ঠাকুরপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে বিজেপি বিধায়ককে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন দলেরই নেতাকর্মীদের একাংশ। বিধায়ক শংকরবাবু বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। যদি কিছু ঘটে থাকে, তাহলে উনি দলের উচ্চস্তরে না জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ করলেন কেন?’ তবে সূত্রের খবর, ডালিয়াদেবী এনিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও একটি চিঠি দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের জন্য প্রথমে সুনীল মহারাজের নাম প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছিল বিজেপি। পরে তা বাতিল করে শংকরবাবুকে দাঁড় করানো হয়। সুনীলবাবু বলেন, ‘ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। দলীয় প্রতীকের মর্যাদারক্ষার বিষয়টি দলের উপরমহলকে দেখতে বলব।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)