সংবাদদাতা, বনগাঁ: যশোর রোডের পাশে একটি গাছের শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। নাম বাপন বিশ্বাস (২৫)। বনগাঁর সিকদারপল্লির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। রবিবার বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে সিকদারপল্লি এলাকায়। সোমবার ওই মৃত যুবকের বাড়িতে যান মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।
রবিবার বিকালে বাড়ি থেকে বাইকে করে যাওয়ার সময় তাঁর উপর গাছের একটি শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় বাপনের। প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় এক ঘণ্টা চলে অবরোধ।
এলাকাবাসীদের দাবি, যশোর রোডের দু’পাশ দিয়ে সারি সারি মৃত গাছ বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই গাছগুলি কাটার দাবিও জানিয়েছি আমরা। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। গয়নার বাক্স তৈরির কাজ করতেন বাপন। তাঁর উপরই সংসারের দায়িত্ব ছিল। সেই যুবকের এমন মৃত্যুতে এলাকাবাসীরা শোকাচ্ছন্ন।
এদিকে, দিল্লিতে বসেই দুর্ঘটনার কথা শুনেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এলাকায় ফিরে সোমবার সকালে মৃত যুবকের বাড়িতে যান তিনি। ছেলের মৃত্যুর জন্য বিপজ্জনকভাবে থাকা গাছগুলিকে দায়ী করেছে পরিবার। এদিন মৃত যুবকের বাড়িতে বসেই বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মন্ত্রী। গাছ কাটা শুরু না হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। এরপর দ্রুত এবিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। অশোকবাবু বলেন, আমি গাছ কাটার বিষয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। ১০ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।
বেশ কয়েক বছর আগে যশোর রোডে চলন্ত অটোয় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বনগাঁর নাট্যকর্মী এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। এরপরও ছোটো-বড়ো বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পেট্রাপোল থেকে বারাসত পর্যন্ত ১১১টি মৃত গাছ কাটা ও ২৪৭টি গাছের ডাল কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব চিত্র