মদের দোকানের লাইসেন্স বিলিতে অনিয়ম, তদন্ত শুরু নতুন সরকারের
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছরে দেদার মদের দোকানের লাইসেন্স বিলি করা হয়েছে রাজ্যে। নিয়ম না মেনে অনেককেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫০০ মিটার বা এক কিলোমিটারের মধ্যেও অনেকেই লাইসেন্স পেয়েছেন। কোন যাদুবলে অকাতরে মদ বিক্রির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিজেপি সরকার। আবগারি দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের বেশ কয়েকজন স্ক্যানারে রয়েছেন। ঠিকঠাক তদন্ত হলে বড়সড় আবগারি কেলেঙ্কারি সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
রাজ্যে ঢালাও মদের দোকান খোলা নিয়ে সাধারণ মানুষই প্রথম গর্জে উঠেছিলেন। বহু এলাকায় দোকান খুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় লাইসেন্স আবেদনকারীদের। তা সত্ত্বেও তাঁরা লাইসেন্স পেয়ে যান। আবগারি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী লাইসেন্স পেতে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। সরকারের ধার্য করা ফিজ জমা করতে হয়। তারপরই আবেদনপত্র একাধিক স্তরে যাচাই করা হয়। পরিবেশ, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আধিকারিকরা নিজেরাই এলাকায় যান। পুলিশের কাছেও তথ্য নিতে হয়। সমস্ত রিপোর্ট সন্তোষজনক হলেই লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করে রাজ্য। অভিযোগ, তৃণমূলের শেষ পাঁচ বছরে এইসব নিয়ম-নীতির কোনো তোয়াক্কা না করেই লাইসেন্স বিলি করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, ‘বর্ধমান শহরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঢিল ছোড়া দূরত্বে মদের দোকান রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই বার তৈরি হয়েছে। কিভাবে বার তৈরির ছাড়পত্র দেওয়া হল, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। আগের গ্রামের পরিবেশ ভালো ছিল। তৃণমূল জমানায় গ্রামগুলিতেও মদের দোকান তৈরির অবাধ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কোনও কোনও গ্রামে একাধিক দোকান রয়েছে। গ্রামীণ এলাকার যুব সমাজও নষ্ট হচ্ছে। এর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল সরকার।’ প্রশাসনের আর এক আধিকারিক বলেন, রাজ্যে ২০১১ সালের পর কতগুলি মদের দোকান তৈরি হয়েছে, কত মদ বিক্রি হয়েছে, সেসব তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে কতগুলি মদের দোকান গজিয়ে উঠেছে, তারও তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। নিয়ম না মেনে যে দোকানগুলি খোলা হয়েছে, সেগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেসব আধিকারিকরা অবৈধ কাজে মদত দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়াও আবগারি দপ্তরে আরও বেশ কিছু অনিয়ম সামনে এসেছে। সেগুলিও যাচাই করা হচ্ছে। বহু রাঘব বোয়াল এই চক্রে যুক্ত থাকতে পারে। তৃণমূলের জমানায় মদ থেকে রাজস্ব অনেক বেড়েছিল। প্রতি বছরই নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। তবে শুধু রাজস্ব নয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক শ্রেণির আধিকারিক ফুলেফেঁপে উঠেছেন। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘সবটাই দলের ঘাড়ে চাপালে হবে না। মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকে না। আধিকারিকরাই লাইসেন্স দেন। কোথাও অনিয়ম হলে তার দায় ওই সমস্ত আধিকারিকদের নিতে হবে।’