হোটেল, রেস্তরাঁ ও ট্যুর অপারেটরদের শিল্পের মর্যাদা, মিলবে সরকারি সুবিধা
বর্তমান | ০৭ জুলাই ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে পর্যটনের প্রসারে এবার শিল্পের মর্যাদা পেতে চলেছে হোটেল, রিসর্ট ও রেস্তরাঁ। এক্ষেত্রে মিলবে একাধিক সরকারি সুযোগ সুবিধা। ইন্ডাস্ট্রির তকমা দেওয়া হতে পারে সরকারি গাইডলাইন মেনে চলা ট্যুরিজম সার্ভিস অপারেটর বা হসপিটালিটি সেক্টরকেও। এমনই ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, পর্যটনের সঙ্গে হোটেল সহ অন্যান্য যেসব সেক্টর যুক্ত রয়েছে, সেগুলিকে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাটাস দিয়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা কী দেওয়া যায় তা নিয়ে পলিসি তৈরি করছি আমরা। মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়ার পরই সবটা বলব। তবে এটুকু বলতে পারি, পুজোর আগেই সুখবর মিলতে চলেছে। আমরা পর্যটনে নয়া দিশা দেখাতে চাই।
রাজ্যের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহল। তাদের বক্তব্য, হোটেল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যাটাস পেলে উদ্যোগপতিদের কাছে এ রাজ্যে ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি বার্তা পৌঁছবে। যা পর্যটনে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাড়াবে। দার্জিলিং গ্লোবাল ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছেন পর্যটনমন্ত্রী। তাঁর ওই ঘোষণার পর পাহাড়ে পর্যটনে বিনিয়োগের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে বলে বণিক সংগঠন সূত্রে খবর।
বেশ কয়েকজন উদ্যোগপতি পাহাড়ে পর্যটন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চেয়ে ইতিমধ্যেই সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখেছেন বলে দাবি বেঙ্গল ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কর্তা ঋত্বিক দাসের। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার যদি হোটেলকে ইন্ডাস্ট্রির স্ট্যাটাস দিয়ে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে পর্যটনে বিনিয়োগ অনেকটাই বাড়বে।
ইন্ডাস্ট্রির স্ট্যাটাস পেলে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে যাঁরা হোটেল, রিসর্ট কিংবা রেস্তরাঁ করবেন, তাঁরা জল, বিদ্যুৎ সহ নানা ক্ষেত্রে ছাড় পেতে পারেন বলে মনে করছেন হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট সান্যাল। তাঁর দাবি, ট্যুরিজম সার্ভিস অপারেটরদের অর্থাৎ ট্যুরিজম হসপিটালিটি সেক্টরকেও যাতে ইন্ডাস্ট্রির মর্যাদা দেওয়া হয়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে চিঠি লিখে চলেছি আমরা। বর্তমান সরকারের পর্যটনমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানতে পেরেছি। সম্রাটের দাবি, ২০২৩ সালে হোটেলকে ইন্ডাস্ট্রির তকমা দেওয়া হলেও আগের রাজ্য সরকার এনিয়ে কোনো পলিসি তৈরি করেনি। ফলে মেলেনি সরকারি সুযোগ সুবিধা।
রাজ্যে গ্রামীণ পর্যটনের প্রসারে বর্তমানে হোম স্টের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের ক্ষেত্রে অভিযোগ, হোম স্টের নামে বিপজ্জনক জায়গায় কংক্রিটের দোতলা বাড়ি তৈরি করে ফেলা হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে পাহাড়ের ভারসাম্য। ঝুঁকি বাড়ছে ধসের। এইসব হোম স্টের বেশিরভাগই ভাড়া কিংবা লিজে দিয়ে রাখা হয়েছে।
এনিয়ে পর্যটনমন্ত্রীর বক্তব্য, হোম স্টে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা কড়া গাইডলাইন আনছি। হোম স্টের ক্ষেত্রে ন্যূনতম রুমের সংখ্যা ৬টি থেকে বাড়িয়ে ৮টি করা হচ্ছে। সরকারি গাইডলাইন না মানলে হোম স্টে বলে বোর্ড টাঙানো যাবে না। পুজোর আগেই আমরা পর্যটন বন্ধু অ্যাপ আনছি।