পুনের লোহাগড় দুর্গে কেতন আগরওয়ালের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সিয়া ও চেতনের কাণ্ডকেও হার মানাবে তেলঙ্গানার নিজামবাদের ঘটনা। ডার্ক সাসপেন্স থ্রিলারের চিত্রনাট্য থেকে রসদ নিয়েই স্বামীকে হত্যার ছক। কর্মসূত্রে বিদেশে থাকা স্বামী হঠাৎ বাড়ি ফিরতে প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় বাধা পড়ে। তার জেরে স্বামীকেই নৃশংস ভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, প্রথমে মদ খাইয়ে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হলেও ওই ব্যক্তি প্রাণে বেঁচে যান। এর পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্যালাইনের (IV) ক্যানুলার মাধ্যমে তাঁর শরীরে টয়লেট ক্লিনার ও অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ ঢুকিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন অভিযুক্ত স্ত্রী।
মৃতের নাম প্রশান্ত (৩৫)। তিনি কর্মসূত্রে এতদিন বিদেশে ছিলেন এবং সম্প্রতি বাড়ি ফেরেন। অভিযুক্ত স্ত্রী সন্ধ্যা (৩২) পেশায় নার্স। একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, ৩৫ বছরের প্রশান্তের সঙ্গে দাম্পত্যে সম্প্রতি কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল সন্ধ্যার। স্ত্রীয়ের সঙ্গে সমস্যা মিটিয়ে নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতেই বিদেশ থেকে ফিরে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, নিজের ঘরেই তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে মৃত্যুর এক নিখুঁত ফাঁদ।
পুলিশের অনুমান, স্বামী বিদেশে থাকাকালীন সন্ধ্যার সঙ্গে এক তরুণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রশান্ত দেশে ফিরে আসার পর সেই সম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, তখনই প্রশান্তকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। স্বামীকে সরাতে প্রেমিক অনিল (৩৫)-এর সঙ্গে ছক কষে। তাদের প্ল্যানে সহযোগিতা করে অনিলের বন্ধু ভেঙ্কট সাইও।
পুলিশের অভিযোগ, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ জুন প্রশান্তকে প্রচুর মদ্যপান করান ভেঙ্কট সাই নামে অনিলের ওই বন্ধু। তার পরে তাঁকেবাড়ির ছাদে নিয়ে গিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর জখম হলেও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে যান প্রশান্ত। অভিযুক্তরা তাঁকে বোঝান, অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। এর পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
পুলিশের অভিযোগ, প্রথম প্ল্যান ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয় প্ল্যানও তৈরি ছিল সন্ধ্যার কাছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ছাদ থেকে ফেলেও মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় গত ৩০ জুন রাতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ করেন অভিযুক্ত স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যা নিজের নার্সিংয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গভীর রাতে প্রশান্তের হাতে লাগানো আইভি লাইনের (IV line) মাধ্যমে সরাসরি অ্যানাস্থেসিয়া এবং টয়লেট ক্লিনার শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেয়। এর ফলে বিষক্রিয়ায় প্রশান্তের মৃত্যু হয়। বিষাক্ত রাসায়নিক রক্তে মিশে যাওয়ার পরই প্রশান্তের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। ফরেন্সিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।
মৃত্যুর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর জন্য সন্ধ্যা দাবি করে যে, প্রশান্ত খাট থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। কিন্তু নিহতের মায়ের সন্দেহ হওয়ায় তিনি ১ জুলাই পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, ফোনের রেকর্ড এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গোটা ষড়যন্ত্রের সূত্র মিলেছে বলে দাবি পুলিশের। এই ঘটনায় সন্ধ্যা, তার প্রেমিক অনিল (৩৫) এবং সহযোগী ভেঙ্কট সাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেরার মুখে তিন অভিযুক্তই অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি।
তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির ফরেন্সিক পরীক্ষা চলছে। টয়লেট ক্লিনার এবং অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধই মৃত্যুর কারণ কি না, তা ল্যাবরেটরির রিপোর্টেই স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।