সমুদ্রের বুকে ধেয়ে আসা ঝড়বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাস দিতে যে যন্ত্র দিনরাত কাজ করে, এ বার বঙ্গোপসাগরে ‘নিখোঁজ’ সেই যন্ত্র। তাকে দেখতে অনেকটা পয়সা জমানোর ভাঁড়ের মতো। তবে আকারে অনেকটাই বড়। নাম ‘ওয়েভ রাইডার বয়’। গত ২৯ তারিখ দিঘায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সময়ে ভেসে যায় সেটি। ভাসতে ভাসতে তা কাকদ্বীপের দিকে চলে গিয়েছে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলবার সকালে সেই ‘ওয়েভ রাইডার বয়’কে খুঁজতে বকখালি, গঙ্গাসাগর ও কাকদ্বীপ উপকূলে এসে পৌঁছেছেন হায়দরাবাদের বিজ্ঞানীদের একটি দল।
দিঘা ও শঙ্করপুরের মাঝে বসানো ছিল ‘ওয়েভ রাইডার বয়’ যন্ত্রটি। অক্ষয় সিং নামে দিঘায় কর্মরত এক ফিল্ড বয় জানান, এই যন্ত্রের রেঞ্জ ৩০ কিলোমিটার। তার মধ্যে যদি থাকে তা হলে বিজ্ঞানীদের হাতে থাকা ট্র্যাকারে তা ধরা পড়বে।
অক্ষয় বলেন, ‘গঙ্গাসাগরে আমরা অ্যান্টেনা-সহ রিসিভার নিয়ে এসেছি। রিসিভারের ৩০ কিলোমিটার রেঞ্জ। তার মধ্যে থাকলে লোকেশন দেখিয়ে দেবে। সকালে গঙ্গাসাগর যাই। সেখান থেকে বকখালি এসেছি। তবে এখন সাগরে যেতে পারছি না আবহাওয়া খারাপ বলে। কোনও বোট যেতে চাইছে না। দেখা যাক কী করা যায়।’
অক্ষয় আরও জানান, দিঘা থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে ওই যন্ত্র ফেলা ছিল। তারের দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল সেটি। তা ছিঁড়ে ভেসে যায়। এই যন্ত্রের মাধ্যমে আবহাওয়ার সমস্ত আপডেট পান বিজ্ঞানীরা। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তা পৌঁছয়। ২৯ তারিখই কাকদ্বীপে এক মৎস্যজীবী এই যন্ত্রের হুকটি দেখতেও পান। তবে তিনি অত কিছু বুঝতে পারেননি। তাই মাথাও ঘামাননি।
সামুদ্রিক আবহাওয়া ও ঢেউয়ের নিখুঁত তথ্য পেতে INCOIS, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই যন্ত্রটি সমুদ্রে বসানো হয়েছিল। জলের নীচে কংক্রিটের বোল্ডারের সঙ্গে লোহার তারের দড়ি দিয়ে এটি বাঁধা ছিল। কিন্তু গত ২৯ জুন প্রবল জলোচ্ছ্বাসে কোনও ভাবে সেই তারের দড়ি ছিঁড়ে যায়। তার পর থেকেই যন্ত্র থেকে সিগন্যাল আসা বন্ধ।
এই যন্ত্রে দু’টি অ্যান্টেনা আছে। একটি বেতার তরঙ্গের সঙ্গে এবং আর একটি কৃত্রিম উপগ্রহের সঙ্গে যুক্ত থাকত। এর মাধ্যমে সাঙ্কেতিক বার্তা পৌঁছে যেত হায়দরাবাদে INCOIS-এর সদর দপ্তরে। তিনটি দলে ভাগ হয়ে বিজ্ঞানীরা অত্যাধুনিক যন্ত্র নিয়ে বকখালি, গঙ্গাসাগর এবং কাকদ্বীপে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কিন্তু প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে বেশি দূর যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ভরত কুমার বলেন, ‘বয়টি থেকে আমরা এখন কোনও সিগন্যাল পাচ্ছি না। যন্ত্রের মাধ্যমে অবস্থান জানার চেষ্টা করলেও কোনও তথ্য মিলছে না। তাই বিজ্ঞানীদের তরফ থেকে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে ,সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে যদি কেউ এই ভাসমান গোলাকার বয়টি দেখতে পান, সঙ্গে সঙ্গে যেন তিনি প্রশাসনকে খবর দেন।’