বারুইপুরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনার তদন্তে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্য পুলিশের ডিজি। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার পাশাপাশি যে জায়গা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে, সেই জায়গাও ঘুরে দেখেন তিনি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, একজন অপরাধীও যাতে ছাড় না পায়, তা দেখা হবে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যে যে অভিযোগ উঠেছে, তা-ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
৬ সদস্যের SIT গঠন করে বারুইপুরের নৃশংস ঘটনার তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বয়ান মিলিয়ে দেখতে এ দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডিজি-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা বলেন, ‘যে হেতু ঘটনাটি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্তের স্বার্থে বেশি কিছু বলা যাবে না। এখনও তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্ত চলছে। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জানানো হবে। যদি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে যে দেরিতে রেসপন্স করা হয়েছে বা কিছু, পুরোটাই তদন্ত করে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হবে।’
এ দিকে এ দিনই বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতের পরিবারের দাবি, দোষীদের চরম শাস্তি দেওয়া হোক। যদিও ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ বা সর্বোচ্চ সাজার কথা বলেছেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা হয়েছে।
এ দিন সকালে বারুইপুরে যান রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ওই নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। বেরিয়ে এসে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘বাচ্চাটির বাবা সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের সরকার, মুখ্যমন্ত্রীর উপরে পুরোপুরি ভরসা রেখেছেন। সারা গ্রাম ভরসা রাখছে। সারা বাংলার মানুষকে কথা দিচ্ছি, শুধু এই ঘটনাই নয়, কোথাও কোনও নারীর উপরে অন্যায় হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। যারা যুক্ত, এমনকী মুখ্যমন্ত্রী যেমন বলেছেন, যদি দেখা যায় পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি, সেটাও বরদাস্ত করা হবে না।’
শনিবার, ৪ জুলাই বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার পথে খুন হয় ষষ্ঠী শ্রেণির ওই ছাত্রী। পরের দিন বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই পুকুর থেকে উদ্ধার হয় বস্তাবন্দি দেহ। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে, যৌন নির্যাতন ও অত্যাচারের প্রমাণ মিলেছে বলেই খবর। এমনকী যখন ওই নাবালিকাকে পুকুরে ফেলা হয়, তখনও তার প্রাণ ছিল।
বারুইপুর থেকেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে সোমবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে খোঁজ পায় আর এক অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দিবাকর সর্দারের খোঁজ মেলে। তার কল ডিটেল ঘেঁটে সামনে আসে, ঘটনার আগে তারা পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেছে। আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ দিন ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী, ন্যাশনালিস্ট সিজিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষরা। যান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও।