• তারাতলা কাণ্ডে কী এমন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
    আজকাল | ০৭ জুলাই ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়াঃ মঙ্গলবার তারাতলার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন বিপর্যয়ে মৃত ও আহতদের পরিবারকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও সাফ জানান। 

    এ দিন নবান্ন সভাঘরে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "অর্থ দিয়ে কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। তবে সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে। অতীতের প্রশাসনিক ও কর্পোরেশনের ত্রুটিগুলি সংশোধন করা হবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।"

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, দমকল, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে ১৭ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যদিও ১৬ জনের প্রাণ বাঁচানো যায়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সংস্থার ভূয়সী প্রশংসাও করেন শুভেন্দু অধিকারী।

    এ দিনের বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বক্তব্য মন দিয়ে শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ঘোষণা করেন, "ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।" পাশাপাশি, শ্রম দফতরের সেস ফান্ড থেকে মৃতদের পরিবারকে আরও কী ধরনের আর্থিক সহায়তা করা যায়, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। 

    এ জন্য কলকাতা পুরসভার কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একটি প্রস্তাব তৈরি করে মুখ্যসচিবের মাধ্যমে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই তা জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে পরিবারগুলিকে মাসিক আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, মৃতদের সন্তানদের পড়াশোনা, হস্টেলে থাকার ব্যবস্থা বা সরকারি আবাসনে শিক্ষার সুযোগের বিষয়েও সরকার সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির উপযুক্ত সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খতিয়ে দেখার এবং স্থানীয় থানার মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার নির্দেশ দেন।

    এ দিন আহতদের চিকিৎসা নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কারও অতিরিক্ত চিকিৎসা বা ওষুধের প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য দফতর সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে। যতদিন প্রয়োজন হবে, রাজ্য সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করবে।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সিভিল ডিফেন্স ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, "এই বৈঠকের উদ্দেশ্য দোষারোপ নয়, বরং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো। ভবিষ্যতে যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।"
  • Link to this news (আজকাল)