আর প্রতিদিনের মতোই ছিল রুটিন। কিন্তু এত বড় বিপর্যয় যে নেমে আসতে পারে তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ। একনাগরে বৃষ্টির জেরে চরম বিপর্যয়। নিমেষে ছারখার হয়ে গিয়েছে সবকিছু। চোখের পলকে মায়ের কোল খালি করে চলে গেল আট মাসের ফুটফুটে শিশুকন্যা। প্রতিদিনের মতোই নিজের একরত্তি মেয়েকে স্নান করানোর তোড়জোড় করছিলেন মা। কিন্তু কে জানত, সেই চেনা মুহূর্তটাই তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ হয়ে নেমে আসবে।
বৃষ্টির জেরে পাশের নড়বড়ে মাটির দেওয়াল ধসে প্রাণ গেল মাস আটের ওই শিশুকন্যার। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি হয়েছে পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের জামবাদ অঞ্চলের জতিয়াট্যাঁড় গ্রামে। এই ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে নিজের আট মাসের শিশুকন্যাকে স্নান করানোর জন্য উঠোনে জলের পাত্রের পাশে শুইয়ে রেখেছিলেন মা সোনালি সোরেন।
এরপর তিনি ঘরের ভিতরে গিয়েছিলেন মেয়ের স্নানের জন্য তেল আর সাবান আনতে। ঠিক তখনই আচমকা এক বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারদিক। ঘরের ভেতর থেকে মা এবং আশপাশের প্রতিবেশীরা তীব্র আতঙ্কে ছুটে আসেন উঠোনে। এসে যা দেখেন, তাতে সবার বুক কেঁপে ওঠে। দেখা যায়, বৃষ্টির জলে নড়বড়ে হয়ে যাওয়া পাশের বাড়ির মাটির দেওয়ালটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে ঠিক সেই জায়গায়। সেখানেই শুইয়ে রাখা হয়েছিল শিশুটিকে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্নান করানোর অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রটি মাটির চাঁইয়ের চাপে দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাটি সরিয়ে ওই শিশুকন্যাকে উদ্ধার করেন। এরপর তড়িঘড়ি তাকে পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, জতিয়াট্যাঁড় গ্রামে বৃষ্টির জেরে মাটির দেওয়াল ধসে পড়ার এই বিপজ্জনক ঘটনা নতুন নয়। এর আগের বছরও গ্রামে একইভাবে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছিল। যা আতঙ্ক বাড়িয়েছে স্থানীয়দের।