বারুইপুর কাণ্ডে গণপিটুনিতে মৃত যুবক নির্দোষ, জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু! কে এই ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল?
News18 বাংলা | ০৭ জুলাই ২০২৬
বারুইপুরে অভিযুক্ত হিসেবে সন্দেহে যে যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তিনি নির্দোষ৷ মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এবং তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলার পর এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশি তদন্তেই জানা গিয়েছে যে গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নির্দোষ ছিল৷
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে ওই যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় যারা যুক্ত, তাদের নাম খুনের মামলায় যুক্ত করা হবে৷ এই ঘটনাতেও কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এ দিন বারুইপুরের নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের মতো গণপিটুনিতে মৃত ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অবিবাহিত একটা বাচ্চা ছেলে, তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলল৷ যারা মেরেছে তাদেরকেও খুনের মামলায় যুক্ত করতে বলেছি৷ যারা যারা গুন্ডামি করেছে সারাদিন ধরে, ২০০-র বেশি লোককে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ যাঁরা উস্কানি দিয়েছে, সমাজমাধ্যমে সস্তার ভিউয়ারশিপ বাড়ানোর জন্য, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ পুলিশের গাড়ি ভেঙেছেন, রেল লাইন উপড়েছেন, প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে৷ কাউকে ছাড়া হবে না৷ পিছন থেকে যারা উস্কেছে তার মধ্যে দেশবিরোধী শক্তিকে, রাজনৈতিক শক্তিও রয়েছে৷ কেউ শূন্য থেকে ১ হয়েছে, কেউ ক্ষমতা থেকে সরেছে৷ কারওকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে৷’
স্থানীয় সূত্রে খবর, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে পেশায় অটোচালক ওই যুবক ঘটনার দিন নিজের বাড়িতেই ছিলেন৷ ওই নাবালিকার দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর উন্মত্ত জনতা ইন্দ্রজিতের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে৷ এর পর শুরু হয় নির্মম মার৷ যার জেরে মৃত্যু হয় ইন্দ্রজিতের৷ পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, বারুইপুরে নাবালিকার উপরে নির্যাতনে অভিযুক্ত চারজন মাঝেমধ্যেই ইন্দ্রজিতের অটোতে করে ঘুরত৷ সে কারণেই ঘটনার পর ইন্দ্রজিতের উপরে সন্দেহ হয় ক্ষিপ্ত জনতা৷ শুধুমাত্র সন্দেহের বশেই বছর তিরিশের ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ৷
বারুইপুরে এসপি অফিসে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ই এম বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালেও যান মুখ্যমন্ত্রী৷ বারুইপুরের ঘটনায় উন্মত্ত জনতার মারে আহত তিন পুলিশকর্মীকে দেখতেই হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী৷