• বারুইপুরে গণপিটুনিতে মৃত্যু, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ!
    আজকাল | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পরিস্থিতির মধ্যে গণপিটুনিতে নিহত অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে ঘিরে সামনে এল নতুন তথ্য। মঙ্গলবার বারুইপুরের এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন রাতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন এবং নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ ছিল না। উত্তেজিত জনতা ভুল সন্দেহের বশে তাঁকে মারধর করে হত্যা করে। পরিবারের অভিযোগ, নিরপরাধ হয়েও গণরোষের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।

    এসপি অফিসে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর কথায়, "পুলিশ ও তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পেরেছি, গণপিটুনিতে যে ব্যক্তি মারা গিয়েছেন, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল, তিনি নির্দোষ। তিনিও বিচার পাবেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি।"

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নাবালিকার পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকেও ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

    বারুইপুরে ঘটনার পর যে বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং অশান্তির ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং রেললাইন উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    এছাড়াও, অশান্তির সময় যাঁরা উস্কানিমূলক ভূমিকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে এখনও তীব্র চাঞ্চল্য রয়েছে। একদিকে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে, অন্যদিকে গণপিটুনিতে নির্দোষ ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আসায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুই পরিবারেরই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
  • Link to this news (আজকাল)