• চুলের মুঠি ধরে তুমুল মারধর, অকথ্য গালি!গোবরডাঙা জমিদার বাড়িতে ছবি তুলতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার
    News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • গোবরডাঙা জমিদার বাড়িতে ছবি তুলতে গিয়ে চরম হেনস্তার স্বীকার কলেজ ছাত্রীরা, উঠল মারধরের অভিযোগ। কলেজের প্রজেক্টের জন্য ছবি তুলতে গিয়েই এমন হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন ওই ৪ কলেজছাত্রী। উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা জমিদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বারাসত সান্ধ্য কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের চার ছাত্রী দিন আগে কলেজের প্রজেক্টের কাজে ব্যবহারের জন্য গোবরডাঙার জমিদার বাড়ির বাইরের অংশের ছবি তুলছিলেন। সেই সময় জমিদার পরিবারের সদস্য সৌমিক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় তাঁদের কাছে ছবি তোলার কারণ জানতে চান।

    ছাত্রীদের দাবি, তাঁরা জানিয়েছিলেন যে বাইরে থেকে ছবি তুলতে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। অভিযুক্ত আপত্তি জানানোয় তাঁরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার কথাও বলেন। অভিযোগ, এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ছাত্রীকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে সৌমিক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে (সপ্তম পুরুষ)। অন্য এক ছাত্রী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া, চড়-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি একটি লাঠি নিয়ে তাঁদের মারতে তেড়ে আসেন বলেও দাবি আক্রান্তদের।

    কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে প্রাণে রক্ষা পান তাঁরা। ঘটনায় আহত দুই ছাত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসা হয় চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে। ঘটনার দিনই গোবরডাঙা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও তা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ। পরে অভিভাবকদের সঙ্গে থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন ছাত্রীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

    অন্যদিকে, অভিযুক্তের পরিবার জানিয়েছে, সৌমিক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় মানসিকভাবে অসুস্থ এবং কলকাতার পিজি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। আক্রান্ত এক ছাত্রী বলেন, জমিদার বাড়ির গেট খোলা ছিল এবং অনুমতি ছাড়া প্রবেশ বা ছবি তোলা নিষিদ্ধ এমন কোনও নির্দেশিকা সেখানে ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, যদি অভিযুক্ত সত্যিই মানসিকভাবে অসুস্থ হন, তবে তাঁকে যথাযথ নজরদারিতে রাখা হয়নি কেন! ভবিষ্যতে যাতে আর কেউ এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে গোবরডাঙ্গা জুড়ে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)