: পেশায় তিনি এক সাধারণ স্কুলশিক্ষক। কিন্তু তাঁর নেশা একেবারেই অসাধারণ। ইতিহাস আর ঐতিহ্য সংরক্ষণের অদম্য টানে নিজের বাড়িতেই তিনি গড়ে তুলেছেন এক আস্ত সংগ্রহশালা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনের বাসিন্দা ওই শিক্ষকের নাম সন্তু জানা। পুরনো খবরের কাগজ, প্রাচীন মুদ্রা বা ইতিহাস বিজড়িত নানা সামগ্রী তো তাঁর সংগ্রহে ছিলই, তবে সম্প্রতি তাঁর এই ভাণ্ডারে যুক্ত হয়েছে এক অভিনব সংযোজন— দেশের নানা প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় ও দোপাট্টা।
সাধারণত কোনও অনুষ্ঠানে অতিথিদের বরণ করে নিতে উত্তরীয় বা দোপাট্টার চল রয়েছে। কিন্তু সন্তুবাবুর কাছে এই বস্ত্রখণ্ডগুলি নিছকই সম্মানের প্রতীক নয়, বরং প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি ও লোকায়ত শিল্পের ধারক। নিজের ব্যক্তিগত খরচ ও আগ্রহে তিনি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করে ফেলেছেন অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, নেপাল, ওড়িশা, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ বহু রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয়। প্রতিটি বস্ত্রের বুননে যেন প্রাণ পেয়েছে সেই অঞ্চলের নিজস্ব রুচি ও শিল্পকলা।
প্রত্যন্ত দাঁতন থেকে কলকাতার দূরত্ব নেহাত কম নয়, তবুও এই ভৌগোলিক ব্যবধান তাঁর এই অদম্য শখের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কখনও নিজে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে, আবার কখনও পরিচিতদের সহায়তায় তিনি তিল তিল করে সমৃদ্ধ করেছেন তাঁর এই অভিনব সংগ্রহশালা।
বর্তমানে শিক্ষকের এই বাড়ি যেন এক ছোটখাটো মিউজিয়াম হয়ে উঠেছে। নিজের ছাত্রছাত্রীদের সামনে এক-একটি উত্তরীয় তুলে ধরে তিনি সাবলীল ভাবে বুঝিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং শিল্পরীতির কথা। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও শিল্পভাবনায় মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। নিছক শখের বশে যে সংগ্রহ শুরু হয়েছিল, আজ তা-ই যেন স্থানীয় পড়ুয়াদের কাছে বৈচিত্র্যময় ভারতীয় সংস্কৃতি ও লোকায়ত শিল্প চেনার এক জীবন্ত পাঠশালা হয়ে দাঁড়িয়েছে।