অসুস্থ স্ত্রীর মুখে আর ওষুধ তুলে দেওয়া হল না, বাড়ি ফেরার পথেই শেষ স্বামীর সফর
News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
অসুস্থ স্ত্রীর জন্য ওষুধ আনতে ছেলের মোটরবাইকে চেপে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মধুসূদন দাস। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ সফর। বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা পাথরের ওপর মোটরবাইক উঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। আহত হন তাঁর ছেলে সৌমিত্র দাস, যিনি মোটরবাইকটি চালাচ্ছিলেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর থানার ফতলপুর এলাকায়।
মৃত মধুসূদন দাসের বাড়ি জামনা গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ স্ত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে বাবা-ছেলে মোটরবাইকে করে কুসুম গ্রামে গিয়েছিলেন। ওষুধ সংগ্রহের পর বাড়ি ফেরার সময় ফতলপুর এলাকায় রাস্তার উপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের ওপর বাইক উঠে যায়। আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে মোটরবাইকটি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে। ধাক্কার তীব্রতায় গুরুতর জখম হন বাবা ও ছেলে। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁদের উদ্যোগেই আহত দু’জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মধুসূদন দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সৌমিত্র দাস বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকদের নজর রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই মৃতের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ। মঙ্গলবার দুপুরে মৃতের ভাইপো সুদীপ দাস অভিযোগ করেন, রাস্তার উপর বেআইনিভাবে পাথর ফেলে রাখার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হচ্ছিল, কিন্তু তা সরানোর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যদের তাঁদের বক্তব্য, সামান্য গাফিলতি ও অসাবধানতার মূল্য দিতে হল একটি পরিবারকে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়, সেজন্য রাস্তার ওপর অবৈধভাবে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা বন্ধ করা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারির দাবিও তুলেছেন তাঁরা।