• রাজ্যসভা ভোটে বাংলায় ৩ আসনই BJP পাচ্ছে? হিসেব যা বলছে
    আজ তক | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতে ফের  রাজ্যে ভোট বাংলায়। খালি হওয়া তিন রাজ‍্যসভা আসনে ভোট হতে চলেছে আগামী ২৪ জুলাই। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক  গতমাসে পদত‍্যাগ করেন রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে। সেই তিন শূন্য পদেই এবার ভোট হবে। বিজ্ঞপ্তি জারি করে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি শূন্য রাজ্যসভা আসনে আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন শূন্য আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই, ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং ১৭ জুলাই প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। সে দিনই বিকেল ৫টা থেকে ভোটগণনা শুরু হবে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। 

    ১০ জুন সাংসদ পদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২ এপ্রিল ২০৩০ পর্যন্ত। সসুখেন্দু শেখর রায় ৮ জুন এবং প্রকাশ চিক বরাইক ১১ জুন পদত্যাগ করেন। ওই তিন আসনে, ২৪ জুলাই ভোট গ্রহণ হবে। দিনক্ষণ সামনে আসতেই, জল্পনা ছড়ায়, তৃণমূল কী করবে এবার? কারণ, রাজ্যসভার ভোট পুরোটাই নির্ভর করে সংখ্যা এবং ফর্মুলার উপর।  যা পরিস্থিতি বড় মাপের কোনও অঘটন না-ঘটলে এই তিনটি আসনই যাবে বিজেপির ঝুলিতে।

     তৃণমূলের দুই শিবির কী করবে?
    কে আসল আর কে নকল, সেই নিয়ে জোর লড়াই চলছে তৃণমূলে ৷ রাজ্যসভার আসন্ন উপনির্বাচনে বিজেপি  সেই লড়াইয়ের ফায়দা তুলবে বলে মনে করছে রাজনৈতির মহল ৷ কারণ, যেহেতু তিনটে আসনে উপনির্বাচন হবে, তাতে হিসেব অনুযায়ী এক আসন জিততে যে সংখ্যা দরকার, এই মুহূর্তে তা কোনও বিরোধী দলের কাছেই নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও শিবিরের কাছেও নেই। ৮০ জন তৃণমূল বিধায়ক একসঙ্গে থাকলে তাও ভাবার অবকাশ ছিল। প্রসঙ্গত, তৃণমূল ৮০ আসন জিতলেও, গত কয়েকমাসে ছবি বদলে গিয়েছে আকাশ পাতাল। স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে  কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূলে। যেদিন নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করেছে, সেদিনই দুই শিবির নিজেদের দাবির প্রমাণে তথ্য জমা দিয়েছে কমিশনে , দলের দখল নিতে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখানে যেহেতু ২০৭ বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে, ফলে গেরুয়া শিবির অনায়াসে জিতে যাবে তিন আসনই। সেক্ষেত্রে বিরোধী কোনও দল বা শিবির প্রার্থী দিলেও, জেতার আশা নেই।

    একাট আসন কি বিরোধীরা পাবে?
    তৃণমূলের পরিষদীয় দল দু’ভাগে ভেঙে না-গেলে কিন্তু এমনটা হত না। সে ক্ষেত্রে অন্তত একটি আসন পেতে পারত তারা। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার আসনসংখ্যা ১৬। দু’বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। ইস্তফা বা অন্য কারণে উপনির্বাচন ছাড়া। এ বছর বিধানসভা নির্বাচনের মাসখানেক আগেই এ রাজ্যের পাঁচ রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। চারটি আসনে জেতার মতো সংখ্যা ছিল তৃণমূলের হাতে। একটি বিজেপির। কার্যক্ষেত্রে সেটাই হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন পাঁচ জন। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ২০৮টি আসন। তৃণমূল ৮০টি। কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবীরের এজেইউপি পেয়েছে দু’টি করে আসন। সিপিএম এবং আইএসএফ একটি করে আসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দু’টি আসনে জিতেছিলেন। ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে বিজেপির আসনসংখ্যা আপাতত ২০৭। হুমায়ুনও দু’টি আসনে জিতেছিলেন। নওদা রেখে রেজিনগর ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁর দলের আসনসংখ্যা আপাতত এক। সব মিলিয়ে বিরোধী শিবিরের আসন আপাতত ৮৫। বিধানসভার এই বিন্যাসের ভিত্তিতে যদি রাজ্যসভার তিনটি আসনে ভোট হয়, তা হলে শাসকদল বিজেপির ঝুলিতে দু’টি এবং বিরোধী তৃণমূলের ঝুলিতে একটি আসন যাওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। কারণ, বিরোধী শিবিরের বিন্যাস আমূল বদলে গিয়েছে। তৃণমূলের টিকিটে জয়ীরা এখন ঋতব্রত শিবির এবং কালীঘাট শিবিরে বিভক্ত। ঋতব্রতের শিবিরে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। কালীঘাট শিবিরে ১৫ জন। এই ভাঙনের জেরে উপনির্বাচনে কাউকে জেতাতে যত ভোট দরকার, সেটা কোনও শিবিরের হাতেই নেই। কারণ, ঋতব্রতপন্থীরা যদি রাজ্যসভা উপনির্বাচনে একটি আসনে প্রার্থী দেন, তা হলে তিনি পেতে পারেন ৬৫টি ভোট। কালীঘাটপন্থীরা সেই প্রার্থীকে ভোট দেবেন না, ধরেই নেওয়া যায়। অন্য দিকে, বিজেপির ভোট সমান তিন ভাগে ভাগ করলে তাদের প্রার্থীরা পাবেন ৬৯টি করে ভোট। ফলে তিন জনেই জিতে যাবেন।

    এনডিএ-এর সাংসদ সংখ্যা কত হবে?
    রাজ্যসভায় এখন মোট আসন ২৪১। এনডিএ-এর সাংসদ ১৫২। এই উপনির্বাচনে তিন আসন বিজেপির ঝুলিতে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই শক্তি বাড়বে পদ্মবনের। সেক্ষত্রে, যে কোনও বিল পাশ করানোর জন্য যে ১৬৪ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, সেদিকে আরও খানিকটা এগিয়ে যাবে এনডিএ।

    ঋতব্রত শিবির কী ভাবছে এই উপনির্বাচন নিয়ে?
    ঋতব্রতপন্থীরা যদি একটি আসনে প্রার্থী দেন এবং তার পরে কালীঘাটপন্থীদের সমর্থন না-চেয়ে অন্য বিরোধী দলগুলির সমর্থন চান। এ ক্ষেত্রে কী হতে পারে? ধরে নেওয়া যাক অন্য বিরোধী দলগুলি সেই প্রার্থীকে সমর্থন করল। তা হলে তিনি ৭০টি ভোট পাবেন। (ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল ৬৫, কংগ্রেস ২, সিপিএম ১, আইএসএফ ১, হুমায়ুন কবীর ১)। এবং জিতে যাবেন।  তবে এত ফর্মুলা আর অঙ্ক কষার হিসেবে জল ঢালছেন ঋতব্রত নিজেই। প্রার্থী প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী  দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, 'আজ নোটিফিকেশন হয়েছে। তিনজন পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের মেয়াদ এখনও অনেকটা বাকি। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই উপনির্বাচন হবে। কিন্তু, বিধানসভার যে সংখ্যার বিন্যাস, তাতে অল ইন্ডিয়া  তৃণমূল কংগ্রেসের তিন আসনে ভোট হলে, জেতার কোনও পরিস্থিতি নেই। পুরোটাই সংখ্যার উপর নির্ভর করে। ফলে আমরা নির্বাচনের বিষয়টি দেখেছি, কিন্তু আমাদের কাছে সেই সংখ্যা নেই যে, আমরা প্রার্থী দেব। ফলে প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্ন নেই।'  

    মমতা কী করবেন?
     তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে মমতাপন্থী তৃণমূল ও ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের লড়াই জাতীয় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তৃণমূলের প্রতীক থাকবে আদৌ থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে কর্তৃত্ব দেখাতে প্রার্থী দেবে কি মমতা শিবির? আদি তৃণমূলের অন্দরের খবর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্রীই। এদিকে এবিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ঋতব্রত শিবির।  তৃণমূলের এই পারস্পরিক লড়াইয়ের কারণে আসন্ন উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত বিধানসভায় নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সেটাই দেখার । কালীঘাট শিবির এবং ঋতব্রত শিবির - এই দুই যুযুধান পক্ষের লড়াইয়ে শেষ হাসি কারা হাসে, এখন সেদিকেই কৌতূহলী নজর আটকে রয়েছে গোটা রাজ্য রাজনীতির ।
  • Link to this news (আজ তক)