• ফুটবলই ছিল প্রাণ, সেই ফুটবল খেলতে গিয়েই শেষ বারুইপুরের প্রসেনজিৎ! পরিবারকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
    News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • ফুটবলই ছিল তাঁর প্রাণ৷ আর সেই ফুটবলের জন্যই প্রাণ গেল বারুইপুরের উঠতি ফুটবলার ১৭ বছরের প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের৷ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সামান্য গন্ডগোলের জেরেই দশম শ্রেণির পড়ুয়া প্রসেনজিৎকে কুপিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ৷

    নৃশংস এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ এ দিন বারুইপুরের এসপি অফিসে মৃত প্রসেনজিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও৷ অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির আশ্বাস প্রসেনজিতের পরিবারকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

    স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় উঠতি ফুটবলার হিসেবে সুনাম ছিল প্রসেনজিতের৷ আশেপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলার জন্য ডাকও পেত প্রসেনজিৎ৷ প্রসেনজিতের বাবা পেশায় ভ্যান চালক৷ ফুটবল খেলেই নিজের স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি সংসারের হালও ধরার চেষ্টা করছিল প্রসেনজিৎ৷

    সোমবার স্থানীয় এলাকায় একটি ম্যাচ খেলতে গিয়েই গন্ডগোলের সূত্রপাত৷ জানা গিয়েছে, প্রসেনজিতের সঙ্গে খেলা সংক্রান্ত বিবাদে জড়িয়ে পড়ে কয়েকজন যুবক৷ সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে মাকে মাছের ঝোল ভাত রান্না করতে বলে প্রসেনজিৎ৷ এরই মধ্যে সূর্য নামে তাঁর এক বন্ধু এসে ওই যুবকদের সঙ্গে মিটমাট করার জন্য প্রসেনজিৎকে ডেকে নিয়ে যায়৷ অভিযোগ, স্থানীয় একটি বাঁশবাগানে গেলে প্রসেনজিতের উপরে চড়াও হয় পাঁচ জন৷ ধারাল অস্ত্র দিয়ে প্রসেনজিতের বুকে, ঘাড়ের কাছে একের পর এক কোপ মারা হয়৷

    হামলার পর অভিযুক্ত যুবকরাই প্রসেনজিৎকে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ হাসপাতালে প্রসেনজিৎকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷ সেখানেই তাদের কথায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ায় অভিযুক্তদের আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা৷ পরে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷

    প্রসেনজিতের বাবা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন৷ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রসেনজিতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রসেনজিতের বাবা বলেন, ছেলে খেলা পাগল ছিল৷ আমি টিভিতে একটু খবর দেখতে চাইলে ছেলে দেখতে দিত না, বলত বাবা আমি একটু খেলা দেখে নিই৷ ব্রাজিলের খেলা দেখতে ভালবাসত৷ সেদিনও খেলে জার্সি, প্যান্ট নিয়ে ফিরেছিল৷

    প্রসেনজিতের দিদি বলেন, ভাই কোনও দিন মাছ খেতে চাইত না৷ কিন্তু সেদিন মাকে বলে গিয়েছিল, মাছের ঝোল ভাত রান্না করে রাখতে৷ ফিরে এসে খাবে৷ আমার ভাইকে ওরা এমন ভাবে কুপিয়েছে যে ওর হৃৎপিণ্ডটাও বেরিয়ে এসেছিল৷ প্রসেনজিতের দাদা বলেন, পরিকল্পনা করেই ওরা আমার ভাইকে খুন করেছে৷ নাহলে ধারাল অস্ত্র সঙ্গে করে কেন নিয়ে আসবে? অন্যদিকে ছোট ছেলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন প্রসেনজিতের মা৷ কোনওক্রমে তাঁকে সামলাচ্ছেন পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীরা৷
  • Link to this news (News18 বাংলা)