• বারুইপুরে গিয়ে শুনতে হল 'চোর- বেইমান' কটাক্ষ, কী বললেন দল বদল করা দুই সাংসদ কাকলি- সায়নী?
    News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে গিয়ে ‘চোর’, ‘গদ্দার’, ‘বেইমান’ -এর মতো কটাক্ষ শুনতে দলবদল করা দুই এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সায়নী ঘোষকে৷ এ দিন সকালে বারুইপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূল ছেডে় এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া দুই সাংসদ৷ নির্যাতিতার বাড়ির কাছে পৌঁছনো মাত্রই দু জনকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ৷ নির্যাতিতার বাড়িতে ঢোকার সময় বাধা পেয়ে অপেক্ষাও করতে হয় যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে৷

    মঙ্গলবার সকালে বারুইপুরে গণধর্ষণের পর খুন হওয়া নাবালিকার বাড়িতে যান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক এবং নেতা৷ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও সেই দলে ছিলেন শিউলি সাহা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতানেত্রীরা৷ এ ছাড়াও তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া দুই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সায়নী ঘোষও সূর্যপুর গ্রামে নির্যাতিতার বাড়িতে যান৷ সায়নী ওই এলাকার সাংসদও৷

    কিন্তু সায়নী এবং কাকলি ঘটনাস্থলে পৌঁছনো মাত্র ভিড়ের মধ্যে থেকে চোর, চোর স্লোগান ওঠে৷ কাকলি, সায়নীদের উদ্দেশ করে বেইমান, গদ্দারের মতো কটাক্ষও উড়ে আসে৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য দুই সাংসদই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন৷ তবে জনতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে নির্যাতিতার বাড়িতে ঢোকার আগে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এলাকার সাংসদ সায়নীকে৷

    নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর অবশ্য সায়নী বলেন, ‘আমার প্রতি অভিমান থাকলে বলতেই পারে৷ ১ মিনিট আটকাবে, আবার আধ ঘণ্টা ভিতরে ঢুকে কথাও বলব৷ এখন আমাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু এই নৃশংস ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদেরকে শাস্তি দেওয়াই নয়, এর পিছনে কোনও চক্র থাকলেও খুঁজে বের করতে হবে৷ মূল থেকে উৎখাত করতে হবে৷ জনরোষ তৈরি হয়েছিল, মানুষ এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করেছেন৷ এটা এখানকার বাসিন্দাদের প্রত্যেকের একটা ব্যক্তিগত ক্ষতি, তাই মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে৷’

    বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই নির্যাতিতার পরিবারের কাছে এসেছেন তাঁরা৷ কাকলি বলেন, ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড যাঁরা করেছে তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি৷ ধর্ষণকারীর মৃত্যুদণ্ড এবং ফাঁসির দাবি করছি৷ মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন যাতে আমরা পরিবারের পাশে থাকতে পারি৷ লড়াইটা আমাদের লড়াই৷ ওদের শাস্তি চাই৷ আর কখনও যাতে এরকম ঘটনা না হয় তার জন্য আমরা যাতে সজাগ থাকি, মানুষের কাছে এই আবেদন করব৷ তবে শুধু কাকলি বা সায়নী নন, এ দিন বারুইপুরে গিয়ে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও৷’
  • Link to this news (News18 বাংলা)