বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। অন্যদিকে, হুগলির চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ে সিটু-র দলীয় কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে সেটিকে নিজেদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশের বিরোধী এই পদক্ষেপ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ।
মঙ্গলবার বোলপুর শহরের নিচুপট্টিতে অবস্থিত তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়, যা স্থানীয়দের কাছে অনুব্রত মণ্ডলের অফিস নামে পরিচিত, সেখানে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে বীরভূমে স্বেচ্ছাচারিতা চলেছে এবং সামাজিক উন্নয়ন হয়নি। বিজেপির দাবি, বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিরা এলাকার উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা ও অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে এ বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডল বা তৃণমূলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে চুঁচুড়ার খাদিনা মোড়ের একটি দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সিটু-র কার্যালয়টি তৃণমূলের দখলে যায়। সম্প্রতি রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেটি ফের সিটু নেতৃত্বের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং গত ২৭ মে সেখানে আবার লাল পতাকা ওঠে। কিন্তু মঙ্গলবার ওই কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে বিশাল ব্যানারে লেখা হয়, ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’।
চুঁচুড়া মণ্ডল বিজেপির সভাপতি দেবমাল্য নিয়োগী-সহ একাধিক বিজেপি কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি কর্মী শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানান, সিটু অফিসটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেটিকে বিজেপির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই দলের সাংগঠনিক কাজ চলবে।
তবে এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেননি চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ। তিনি বলেন, দল কোনও বিরোধী দলের কার্যালয় দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বারবার এমন কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে কার্যালয়টি আগের মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।