বারুইপুরের পরে এবারে নেতাজিনগর, যৌন লালসার শিকার ফের নাবালিকা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ জুলাই ২০২৬
কলকাতার নেতাজিনগরে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১১ বছরের এক নাবালিকা যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত বাবলু বাগ (৫২), পেশায় টোটো চালক, খাবারের লোভ দেখিয়ে ওই নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি মেয়েটির উপর জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতার মা মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তৎক্ষণাৎ নেতাজিনগর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে।
নির্যাতিতা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা একই এলাকায় অটো চালকের কাজ করেন। দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই সৌহার্দ্যপূর্ণ যোগাযোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বারুইপুরের পর নেতাজিনগরের এই ঘটনা ফের আলোচনায় এনেছে নারী ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে।
অন্যদিকে বারুইপুরের ঘটনায় চলছে তদন্ত। রবিবার গভীর রাতে ধৃত ও আটক হওয়া ব্যক্তিদের মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘক্ষণ ম্যারাথন জেরা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক অভিযুক্ত দাবি করে, ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ের একটা যৌথ পরিকল্পনা ছিল তাদের। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই তারা নাবালিকাকে একটি নির্জন জায়গায় আটকে রেখেছিল। তবে অভিযুক্তদের এই বয়ান নিয়ে প্রথম থেকেই ঘোরতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা। তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন যে, ঘটনার দিন বা তার পর থেকে পরিবারের কাছে কোনও ধরনের মুক্তিপণ চেয়ে ফোন বা হুমকি যায়নি। ফলে ধৃতদের এই বয়ান পুরোপুরি সাজানো এবং তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার একটি কৌশল বলেই মনে করছে পুলিশ। ধৃতদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতির জেরে ঘটনার আসল উদ্দেশ্য জানতে সোমবারই তাদের বারুইপুর আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে চলেছে পুলিশ প্রশাসন।