মা-কে খুন করার অভিযোগ উঠল মেয়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, খুনের পরে তা দুর্ঘটনা বলে চালানো চেষ্টা করেন তিনি বলেও অভিযোগ। বাবা মারা যাওয়ার পরে চাকরি পেয়েছিলেন তরুণীর মা। ‘কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ড’-এ ওই চাকরির সঙ্গে মায়ের সম্পত্তি পাওয়ার আশায় ওই তরুণী আত্মীয়দের সঙ্গে বসে এই খুনের ষড়যন্ত্র করেন বলে অভিযোগ। রাজস্থানের জয়পুরের এই ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী-সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম নীরজ শর্মা (৪৫)। জয়পুরের প্রতাপনগরের রবীন্দ্র নগর এলাকার বাসিন্দা তিনি। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর। তবে এই মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মৃতের ভাই রাকেশ। ওই মৃত্যুর পিছনে কোনও রহস্য এবং চক্রান্ত আছে বলে সন্দেহ করে নিজের ভাগ্নী আয়ুষি-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রাকেশ।
জয়পুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (পূর্ব) রঞ্জিতা শর্মা জানিয়েছেন, ওই FIR দায়ের হওয়ার পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ওই তদন্তের ভিত্তিতেই আয়ুষি, তাঁর কাকা এবং কয়েকজন আত্মীয়-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত পলাতক। তাঁর খোঁজ চলছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
কী কারণে এই খুন তাও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। মঙ্গলবার, জয়পুরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওই মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা ছিল না। বরং এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযুক্ত ২৩ বছর বয়সি তরুণী তাঁর মাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন সেই সঙ্গেই ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’ ঠাণ্ডা মাথায় পুরো পরিকল্পনার কথা জেরে অবাক হয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে স্বামী বিজয় কুমার শর্মার মৃত্যুর পর মানবিক কারণে নীরজ আদালতের করণিক পদে (এলডিসি) চাকরি পেয়েছিলেন। তবে ওই চাকরি নিজেই পেতে চেয়েছিলেন আয়ুষি। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত তরুণী জেরায় নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর তাঁকে ওই জায়গায় চাকরি করার জন্য বলেছিলেন তাঁর মা। কিন্তু নীরজ নিজেই সেই পদে যোগ দেন। এর ফলে তাঁর ওপর মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এই কারণে ওই চাকরি এবং মায়ের নামে থাকা যাবতীয় সম্পত্তি পেতে কাকা এবং অন্যদের সঙ্গে এই খুনের ষড়যন্ত্র করেন তিনি।