• ‘নিরাপত্তায় গাফিলতির সুযোগেই...’, রামমন্দিরের অনুদান তছরূপে SBI-এর দিকে আঙুল চম্পত রাইয়ের
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান তছরূপের অভিযোগ সামনে আসতেই পদত্যাগ করেছিলেন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। তবে সেই নিয়ে একটা কথাও বলেননি তিনি। অবশেষে মঙ্গলবার খোলা চিঠিতে নীরবতা ভাঙলেন চম্পত। তিনি লিখেছেন, ‘আগে বিশেষ তদন্তকারী দল রিপোর্ট দিক। তার পরে যা বলার বলব।’ তবে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে লিখিত জবাবে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অযোধ্যা শাখার বিরুদ্ধে নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

    সোমবার বিশেষ তদন্তকারী দলের সামনে হাজির হন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। তদন্তকারীদের কাছে একটি লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন তিনি। সেখানেই অনুদান তছরূপের জন্য পরোক্ষে ব্যাঙ্ককেই কাঠগড়ায় তুলেছেন চম্পত। তাঁর দাবি, ব্যাঙ্কের একাধিক নিরাপত্তা গাফিলতির জন্যই চুরির সুযোগ পেয়েছে অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, অযোধ্যার এসবিআই শাখা চুক্তির একাধিক শর্ত মানেনি বলেও অভিযোগ তাঁর।

    রামমন্দিরের অনুদানের টাকা গণনার দায়িত্ব ছিল স্টেট ব্যাঙ্কের অযোধ্যা শাখার উপর। লিখিত জবাবে চম্পত দাবি করেছেন, চুক্তি অনুযায়ী গণনার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং লোহার গ্রিল-সহ দরজা লাগানোর কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ‘ব্যাঙ্কের পরামর্শে কর্মীরা চেয়ারে বসে টেবিলের উপর টাকা রেখে গণনা করতেন।’

    ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে অনুদানের টাকা গণনার জন্য ট্রাস্ট ও ব্যাঙ্ক যৌথ ভাবে একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু সেই নির্দেশিকাও মানা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।চম্পতের দাবি, টাকা গণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের পকেটওয়ালা পোশাক পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এমনকী ঘরে ঢোকা বা বেরোনোর সময় তাঁদের তল্লাশিও করা হতো না বলেও লিখিত জবাবে জানিয়েছেন তিনি। দেশের সব ব্যাঙ্কেই ট্রেজারি বা নগদ অর্থ রাখার ঘরে কঠোর নিরাপত্তা থাকে। চম্পতের প্রশ্ন, রামমন্দিরের অনুদানের টাকা গণনার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হল না কেন?

    অনুদান তছরূপের অভিযোগ ওঠার পরে পদত্যাগ করলেও চম্পতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। এর মধ্যেই এ দিন রামভক্তদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। চম্পত জানিয়েছেন, সিটের তদন্ত চলাকালীন তিনি মৌন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখ্য, অনুদান তছরূপে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিট। মূল অভিযুক্ত টিন্নু চম্পত রাইয়ের প্রাক্তন গাড়ি চালক। আর ধৃত মণীশ প্রণামী গণনা ও দানবাক্সের নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)