সরকারি ত্রাণের ত্রিপল পোড়ানোর অভিযোগ উঠল বিধায়কের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর গ্রামীণ কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক দীনেন রায়ের বাড়ির মধ্যে রাখা ছিল প্রচুর পরিমাণ ত্রিপল। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না করে নিজের বাড়ির মধ্যে গুদামে রাখা হয়েছিল ওই ত্রিপল বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। সেগুলিই মঙ্গলবার পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই কথা জানাজানি হতেই খড়্গপুর গ্রামীণ আসনের বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার বাসিন্দারা। যদিও কোনও ত্রিপল পোড়ানো হয়নি বলে দাবি করেন বিধায়ক।
মেদিনীপুর শহর লাগোয়া আবাস এলাকাতে বাড়ি খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকার বিধায়কের। ঋতব্রত-তৃণমূল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিন বারের এই বিধায়ক। তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রাক্তন সভাপতি তিনি। আর এ বার তাঁকেই নিজের বাড়ির সামনে পড়তে হলো এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে।
অভিযোগ, সরকারি ত্রাণের ত্রিপল সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না করে নিজের বাড়ির গোডাউনে মজুত করে রেখেছিলেন খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকার বিধায়ক। কেউ ত্রিপল চাইতে গেলে তাঁকে দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ প্রতিবেশীদের। এখন সরকার বদলেছে তাই ভয়ে ত্রিপলগুলি পুড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি বলেও দাবি বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপি নেতা বাসুদেব মণ্ডলের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দাদের না দিয়ে বান্ডিল বান্ডিল ত্রিপল নিজের ঘরেই মজুত করে রেখেছিলেন দীনেন রায়। সেগুলিই মঙ্গলবার পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সরকারি ত্রিপল পুড়িয়ে দিতে গিয়ে পরিবেশ দূষণও করেছেন বিধায়ক বলেও অভিযোগ তাঁর।
মঙ্গলবার দুপুরে যখন ওই ত্রিপল পোড়ানো হয় তখন নিজের বাড়িতেই ছিলেন দীনেন রায়। এ দিকে, বাড়িতে ধোঁয়া এবং আগুন দেখে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরা ছুটে এসে দেখেন দাউ দাউ করে বান্ডিল বান্ডিল ত্রিপল পুড়ছে। বেশিরভাগ ত্রিপল পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এর মধ্যেই যে সমস্ত ত্রিপলগুলি অক্ষত ছিল সেগুলি নিয়ে চলে যান অনেকেই। এরই মধ্যে বাড়ির বাইরে আসতেই দীনেন রায়কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান প্রতিবেশীরা।
যদিও দীনেন রায় দাবি করেন, যেগুলি পোড়ানো হয় সেগুলি ত্রিপল নয়। গোডাউন পরিষ্কার করার জন্য সেখানে থাকা জঞ্জাল, আবর্জনা, ত্রিপলের প্যাকেট ইত্যাদি পড়ানো হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।