• সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে রেখেছে প্রকৃতি, অথচ দেখা নেই পর্যটকদের! কবে আবার যেতে পারবেন বিন্দু?
    News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • বর্ষার ধাক্কায় স্তব্ধ বিন্দু! বর্ষার মরশুমেও পর্যটক শূন্য পাহাড়। বিপাকে ১৫০ ব্যবসায়ী। কালিম্পং জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বিন্দুতে এখন যেন অজানা স্তব্ধতা। কয়েকদিন আগেই গোপাল সেতুর কাছে ভয়াবহ পাহাড় ধসের জেরে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল চার চাকার যান চলাচল। কয়েক দফা ধস সরানোর চেষ্টা হলেও লাগাতার বর্ষার কারণে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু তবুও পর্যটকদের আনাগোনা বিশেষ নেই বিন্দুতে। জলঢাকার জল, পাখির কলতান সবই যেন নীরবে নিজেদের মতোই প্রকৃতিকে সাজিয়ে রেখেছে।

    কিন্তু উপভোগ করার জন্য নেই এক জনও। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো সেতুর পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটার কাজ চলছিল। এর মধ্যেই বর্ষার বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, হঠাৎ করেই রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচলের পথ। তবু তা খানিক  ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি বাসিন্দাদের। বিন্দু, জলঢাকা, ঝালং, প্যারেন, তাসিগাঁও সহ সংলগ্ন ডুয়ার্স ও পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষার সময় পর্যটকদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এবারের সেই চিত্র পুরোপুরি যেন বদলে গিয়েছে।

    পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল অন্তত ১৫০টি দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল, হোমস্টে, রেস্তরাঁ সব ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে চরম মন্দা। এক ব্যবসায়ীর কথায়, “পর্যটক না এলে আমাদের ব্যবসা চলে না। দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।” অন্যদিকে, স্থানীয়দের আশঙ্কা যেকোনও সময় আরও বড় ধস নামতে পারে, যা ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সেসব ভেবেই কার্যত দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ সেখানকার ব্যবসায়ীদের। কারণ, এই ব্যবসার ওপরেই আর্থিক ভাবে নির্ভর অধিকাংশ।

    এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করেছে বর্ডার রোডস প্রকল্প বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ১৫০ ফুট চওড়া ও ৩০ ফুট উঁচু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরোপুরি মেরামত করে স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে অনুমান। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত বিকল্প রাস্তা বা স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। নইলে বর্ষার মরশুমে বিন্দুর পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)