ঝাঁকুনিতে ছিটকে পড়ছে দুধ, যাতায়াতে অন্তঃসত্ত্বাদের ত্রাহি ত্রাহি দশা! কবে শেষ হবে এই দুর্ভোগ?
News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
বর্ধমান-বোলপুর ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের গুসকরায় কুনুর সেতু এবং পূর্ব বর্ধমান-বীরভূম সীমান্তে অজয় নদীর উপর অবস্থিত অবন সেতুর বেহাল দশা এখন নিত্যযাত্রী ও যানবাহন চালকদের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় সড়ক সংস্কারের উদ্দেশ্যে দুই সেতুর ওপরের পিচ ও পাথর তুলে ফেলার পর দুই মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত শুরু হয়নি মূল সংস্কারের কাজ। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।
এমনকী প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অনেক মোটরবাইক আরোহী অবন সেতুর ফুটপাথ দিয়েই যাতায়াত করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুর ওপরের পিচ তুলে ফেলার পর সংযোগস্থলগুলি উঁচু হয়ে থাকলেও মাঝের অংশ নিচু অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে সেতুর উপর দিয়ে কোনও গাড়ি চলাচল করলেই তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের নিয়ে যাতায়াতকারী পরিবারগুলি। বাধ্য হয়ে অধিকাংশ যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
তার জেরে প্রায় প্রতিদিনই গুসকরা এলাকায় জাতীয় সড়কের দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। নিত্যযাত্রী আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, “আমাদের যাতায়াতে সত্যিই চরম অসুবিধা হয়। আমি দুধ নিয়ে যাতায়াত করি দুধ ছিটকে পরে যায়। এই সেতুর সত্যিই খুব তাড়াতাড়ি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।”দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলতে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে নিত্যযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে দুই সেতুর সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করে স্বাভাবিক ও নিরাপদ যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।
শুধু যানজট নয়, যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয়রা। এ বিষয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর জানা বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনও সমস্যা না হয়।” এখন দেখার, প্রশাসনের এই আশ্বাস কবে বাস্তবে রূপ পায়। কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই বিপজ্জনক ও ভাঙাচোরা সেতু পার হয়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা, আর দেরি না করে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করবে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, যাতে স্বস্তি ফেরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে।