এই সময়, দুর্গাপুর: সরকার বদলালে ঠিকাকর্মীদের কাজ হারানোর ট্র্যাডিশন অব্যাহত দুর্গাপুরে। ২০১১–তে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট (ডিএসপি) থেকে শুরু করে একাধিক বেসরকারি কারখানায় কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঠিকাকর্মীদের।
১৫ বছর পরে দুর্গাপুরের বিভিন্ন কারখানায় ফের একই চিত্র। সরকার বদলের পরে গত দেড় মাসে অন্য কারখানার পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএসপি–তেও বহু ঠিকাকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। বেশিরভাগ তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি–র সদস্য। তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না দলের কোনও নেতা।
কাজ হারানো ঠিকাকর্মীদের অভিযোগ, ২০১১ থেকে তাঁদের কাঁধে ভর দিয়ে একের পর এক নির্বাচনী বৈতরনী পার হয়েছেন নেতা-মন্ত্রীরা। কিন্তু এখন দুর্দিনে তাঁদের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টে নির্বাচনে হারের পরে তাঁরা অনেকেই এখন শিবির পরিবর্তনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সাধারণ কর্মীদের কথা কেউ ভাবছেন না। তাঁদের আরও অভিযোগ, এক মাস আগে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি হয়েছেন মলয় ঘটক। তিনিও এই সব কর্মীর পাশে নেই। বাস্তবে পরিবর্তনের পরে মলয়কে জেলাতেই দেখা যাচ্ছে না। তাঁকে একাধিক বার ফোন করা হলেও উত্তর পাওয়া গিয়েছে, মোবাইল সুইচ অফ।
সূত্রের খবর, সেল (স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া) কর্তৃপক্ষ ৪০ শতাংশ কর্মী ছাটাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আইএনটিটিইউসি–র সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কাজ থেকে বসিয়ে বিজেপি–র শ্রমিক সংগঠন বিএমএস–এর সদস্যদের নিয়োগ করা হচ্ছে। একইরকম ভাবে রাজ্যে ২০১১–তে পালাবদলের পরে ডিএসপি–সহ বিভিন্ন বেসরকারি কারখানায় সিটুর সদস্য ঠিকাকর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছিল, নয়তো তাঁদের গেট পাশ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বদলে নিয়োগ করা হয়েছিল আইএনটিটিইউসি–র সদস্যদের।
তবে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএমএস-এর ডিএসপি ইউনিটের সভাপতি অরূপ রায়। তাঁর দাবি, ‘জোর করে কাউকে বসাচ্ছি না। যে সব জায়গা ফাঁকা রয়েছে, সেখানে আমরা বিএমএস–এর সদস্যদের নিয়োগ করছি।’ তৃণমূলের প্রাক্তন শ্রমিকনেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেছেন, ‘সরকার বদল হলে ঠিকাশ্রমিকদের কাজ হারানো দস্তুর হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুরে। শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। রাজ্য আইএনটিটিইউসি সভাপতি মলয় ঘটক নিশ্চয়ই বিষয়টি দেখবেন। না–হলে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে।’