সৈকতের গতিবিধির উপর নজরদারি তৃণমূলের কাউন্সিলাদের একাংশের
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ রাখলেই বোর্ড থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে এমনটাই জানিয়ে দিলেন তৃণমূলের একাংশ কাউন্সিলার। শুধু তাই নয়, সৈকতের রাজনৈতিক গতিবিধির উপর তাঁরা কড়া নজর রাখছেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে চাপ বাড়ল সৈকতের উপর। কারণ, কয়েকদিন আগেই কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন সৈকত। এনিয়ে ঋতব্রত নিজেও জানিয়েছেন, সৈকত দেখা করতে এসেছিলেন। কথা হয়েছে। সৈকতের অবশ্য বক্তব্য, আমি তৃণমূলেই আছি।
মমতা নাকি ঋতব্রত, তৃণমূলের কোন শিবিরে থাকা উচিত তা নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার রাতে দলের কাউন্সিলারদের শহরের একটি হোটেলে বৈঠকে ডাকেন পুরসভার চেয়ারম্যান। সেখানে তৃণমূলের ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তন চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাত সহ আরও দু’জনকে বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ।
সূত্রের খবর, বৈঠকে সৈকত দলের কাউন্সিলারদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, ঋতব্রত শিবিরেই থাকা উচিত। ওই শিবিরেই পাল্লা ভারী। যা শুনে প্রতিবাদে সরব হন একাধিক প্রবীণ তৃণমূল কাউন্সিলার। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, চেয়ারম্যান যদি ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান, সেটা তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে। কিন্তু জলপাইগুড়ি পুরসভায় তৃণমূলের ঋতব্রত শিবিরের বোর্ড চলছে, এমন কোনো ছাপ তাঁরা পড়তে দেবেন না। সেক্ষেত্রে বোর্ড থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবেন তাঁরা।
বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান অবশ্য বলেন, এমন কোনো বিষয় নয়। কীভাবে পুরসভার কাজকর্ম চালানো যাবে, তা নিয়ে আলোচনা করতেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।
জলপাইগুড়ি পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চেয়ারম্যানকে আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ রাখা যাবে না। তিনি কী করছেন, সেদিকে নজর রাখব। যোগাযোগ রাখলে বোর্ড থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তৃণমূলের আরএক প্রবীণ কাউন্সিলার উত্তম বসু বলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন চেয়ারম্যান, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আমি ঋতব্রতকে নেতা মেনে পুরবোর্ডে থাকব না। আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।