নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূমের জেলাসদর সিউড়ির মুকুটে জুড়ল আর এক সাফল্যের পালক। সম্পূর্ণ গ্রামীণ শিল্পীদের হাতের জাদুতে বীরভূমে তৈরি হল রাজ্যের বৃহত্তম খাদি জাতীয় পতাকা। ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ২০ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট এই বিশালাকার তেরঙ্গা পতাকাটি তৈরি করেছেন জেলার ২২জন গ্রামীণ শিল্পী। বীরভূম জেলা খাদি ও গ্রামীণ শিল্পদপ্তর এবং মসলিন তীর্থ ও কর্মতীর্থের তাঁতশিল্পী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে। প্রায় দেড় মাসের পরিশ্রমে তৈরি এই পতাকাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল মঙ্গলবার। এই সাফল্যে আগামী দিনে জেলার কুটিরশিল্পের চেহারা বদলে দেবে বলে আশা করছেন জেলাশাসক ধবল জৈন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের দেওয়া বিশেষ বরাতেই এই জাতীয় পতাকাটি তৈরি করা হয়েছে। এদিন সিউড়িতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বীরভূমের জেলাশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এই পতাকাটি ডিভিসি কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করেন। ডিভিসির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এই বিশালাকার জাতীয় পতাকাটি মাইথন ড্যামে উত্তোলন করা হবে। জেলাশাসক বলেন, এত বড় মাপের খাদি জাতীয় পতাকা তৈরির বরাত পাওয়া এবং তা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ ছিল। কিন্তু যেভাবে আমাদের শিল্পীরা এই কাজ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, সাধারণত নতুন প্রজন্মের কাছে খাদির প্রচার ও খাদি বস্ত্র ব্যবহারের বার্তা দিতে বিভিন্ন মেলা ও উৎসবের আয়োজন করে আসছে সরকার। কিন্তু এত বড় আকারের কাজের অভিজ্ঞতা বীরভূমের এই গ্রামীণ শিল্পীদের আগে ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই শুরুতে কিছুটা আশঙ্কা থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের পরিশ্রমে শেষ পর্যন্ত এই কাজ সম্ভব হয়েছে। জেলাশাসক শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় খাদির জাতীয় পতাকা তৈরি এক অনন্য কীর্তি। এই বিশেষ কাজটি আগামী দিনে জেলার খাদি ও তাঁতশিল্পের বিকাশে একটি মাইলস্টোন হিসেবে কাজ করবে।