• সামুদ্রিক তথ্য জোগানের বয়া দীঘার কাছে ‘নিখোঁজ’, হন্যে হয়ে খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সামুদ্রিক তথ্য জোগাড়ের জন্য দীঘা উপকূল থেকে ৩০ কিমি দূরে একটি ভাসমান বয়া বসানো হয়েছিল। তাতে ছিল নানা ধরনের সেন্সর ও অন্যান্য যন্ত্র। তাতে ধরা পড়ত আবহাওয়ার চিত্র, ঢেউয়ের চরিত্র ইত্যাদি। এর নাম ছিল ওয়েব রাইডার বয়া। ২০২৩ সাল থেকে সেটি নিয়মিত তথ্য পাঠালেও গত ২৯ জুন সমুদ্রের বুক থেকে উধাও হয়ে যায় ওই ভাসমান বয়া।

    জানা গিয়েছে, ভাসমান বয়াটি একটি মোটা লোহার চেন দিয়ে বাঁধা ছিল। চেনের অন্য প্রান্ত বাঁধা ছিল সমুদ্রের তলদেশে একটি কংক্রিটের বোল্ডারের সঙ্গে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশিয়ান ইনফরমেশন সার্ভিসেসের উদ্যোগে এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ব মেদিনীপুরের মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় এই বয়া বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেই লোহার চেন কোনোভাবে ছিঁড়ে যাওয়ায় বয়াটি ‘মিসিং’ হয়ে গিয়েছে। এক সপ্তাহ হলে গেলেও খোঁজ মেলেনি সেটির। বিজ্ঞানীদের মতে,  এতে যে সেন্সর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ লাগানো ছিল, তার মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত। যা কাজে লাগত মৎস্যজীবীদের।

    বয়া থেকে তথ্য পাওয়া বন্ধ হতেই সন্দেহ হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। সমুদ্রের যে অংশে এটি বসানো হয়েছিল, সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সেটি 

    নেই। ওই নিখোঁজ বয়ার সন্ধান পেতে গবেষণা কেন্দ্রের হায়দরাবাদ অফিস থেকে বিজ্ঞানীরা এসেছেন। রবিবার তিনটি দলে ভাগ হয়ে বকখালি, গঙ্গাসাগর ও কাকদ্বীপে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে বয়ার অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। কিন্তু এখনও খোঁজ মেলেনি সেটির। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে 

    তাঁরা কেউই সমুদ্রের গভীরে যেতে পারছেন না। গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ভরত কুমার বলেন, আমরা এখন কোনো সিগন্যাল পাচ্ছি না। আমাদের কাছে যে যন্ত্র আছে, তার মাধ্যমে বয়ার অবস্থান জানার চেষ্টা করছি। তাই মৎস্যজীবীদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যদি কেউ ওই বয়া দেখতে পান, তাহলে সেটি উদ্ধার করে নিয়ে আসবেন। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)