• ‘রিং রোড’ ধরে গাড়ি ছুটবে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, গতি বাড়বে কলকাতার সমীক্ষা খড়্গপুর আইআইটির
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় যানবাহনের গতি বৃদ্ধিতে শহরের বাইরের অংশে ‘রিং রোড’ তৈরির প্রস্তাব দীর্ঘদিনের। সে প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে নাড়াচাড়া শুরু করল রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, দিল্লি সহ দেশের অন্যান্য কিছু শহরের মতো কলকাতাতেও ‘রিং রোড’ তৈরির সম্ভাবনা। তা করতে খড়্গপুর আইআইটিকে ‘ফিজিবিলিটি টেস্ট’ বা এই প্রকল্প বাস্তবসম্মত হবে কি না তা সমীক্ষা করে দেখার কথা বলা হয়েছে।

    এই প্রকল্প নিয়ে বিজেপি সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তারপর পুর, পূর্ত এবং অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কেএমডিএ। তারপর জানা গিয়েছে, গঙ্গার ধার ঘেঁষে চার বা ছ’লেনের ‘ডেডিকেটেড করিডর’ বানানোর ভাবনা আছে সরকারের। এর ফলে যানজট এড়িয়ে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে যাতায়াত সহজ হবে।

    সূত্রের খবর,  বৈঠকে রিং রোড তৈরির বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই পথ কিভাবে হবে, কোন দিক থেকে কোন দিকে যাবে, কোন কোন রাস্তা এই রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হবে, এসব বিষয়ের একটি প্রাথমিক নকশা তৈরি হয়েছে। এখন কলকাতায় যানজটের প্রবল সমস্যা। ভারী পণ্যবাহী গাড়ি শহরের ভিতর দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে রাতেও যানজট হয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কাছে কলকাতা থেকে হাওড়া যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষ গঙ্গার নীচ দিয়ে একটি টানেল পথ তৈরির পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি কলকাতা-বারাণসী এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে গঙ্গার উপর আরও একটি সেতুর পরিকল্পনা রয়েছে। কোনা এক্সপ্রেস ডেডিকেটেড করিডরেরও কাজও চলছে। অন্যদিকে কলকাতার উত্তর সীমায় রয়েছে নিবেদিতা সেতু, বেলঘরিয়া এবং কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে। ডানকুনি-অমৃতসর ফ্রেইট করিডর তৈরির কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। সেক্ষেত্রে শহরের দক্ষিণে বন্দর থেকে উত্তরে ডানকুনি-অমৃতসর করিডর ধরতে হলে যানবাহনকে শহরের বুক চিরে যেতে হবে। ফলে যানজট আরও বাড়বে। যা এড়াতে একমাত্র উপায় গঙ্গার পূর্ব পাড়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কাছ থেকে নিবেদিতা সেতু পর্যন্ত একটি রাস্তা তৈরি। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ শহরতলি, বন্দর এলাকার গাড়ি শহরে না ঢুকে এই পথ ধরে নিবেদিতা সেতু হয়ে শহরের উত্তর দিকে চলে যেতে পারবে। একদিকে টাকি রোড, বসিরহাট, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে, বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ডানকুনি। অন্যদিকে বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে, আমতলা, বারুইপুর, গার্ডেনরিচ, ডায়মন্ডহারবার ইত্যাদি অঞ্চল এই রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হবে। অর্থাৎ এইসব অঞ্চল থেকে গাড়ি কলকাতায় না ঢুকে শহর ঘিরে তৈরি হওয়া পথ ধরে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যেতে পারবে। সূত্রের খবর, এতদিন ‘রিং রোড’ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মুল সমস্যা ছিল টাকার। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় টাকার সংস্থান খুব একটা সমস্যার হবে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রকল্প বাস্তব হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

     বাইপাসে যানজট। ফাইল চিত্র 
  • Link to this news (বর্তমান)