• হোক না ছোটো, এখনও বাজারের রাজা এক টাকার কয়েন
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: হোক না ডিজিটাল লেনদেনের বাড়বাড়ন্ত। কমুক না নগদে লেনদেন। তবুও ক্যাশলেস এই বেচাকেনার যুগে নগদ বাজারে নিজের গৌরব ঠিকঠাকই বজায় রেখে দিয়েছে এক টাকার কয়েন। তার দাপট মোটেও কমেনি। তার ঝনঝনানি এখনও ঝঙ্কার তোলে পকেটে। মাত্র এক টাকা। বড়োজোর একটা ক্যান্ডি বা লজেন্স এর থেকে বেশি কিছু কেনা যায় না এক টাকায়। তবুও গত দশবছরে এই সর্বনিম্ন মানের কারেন্সির দাপট এতটুকুও কমেনি। কলকাতা হাইকোর্টে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছিল। সেটির সূত্রেই এই তথ্য সামনে এসেছে।

    মামলাটিতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার(আরবিআই) রিপোর্ট উল্লেখ করে একটি তথ্য জমা পড়েছে। তাতে জানা গিয়েছে, খুচরো বাজারে এখনও এক টাকার কয়েনের লেনদেন সবথেকে বেশি হয়। আরবিআই’য়ের ২০২৫-’২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত বাজারে রয়েছে ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি এক টাকার কয়েন। যা ৫০ পয়সা, দু’টাকা, পাঁচ টাকা, ১০ ও ২০ টাকার কয়েনের থেকে সংখ্যায় অনেক বেশি। প্রসঙ্গত চলতি আর্থিক বর্ষে আরবিআই ৫০ পয়সার কয়েন বৈধ বলে গণ্য করেছে। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারণে এই কয়েন এখন বাজারে অচল। তথ্য অনুযায়ী, যত সংখ্যক কয়েন ভারতের বাজারে রয়েছে তার ৩৮.৪ শতাংশই এক টাকার। যদিও ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কমেছে এক টাকার কয়েনের সংখ্যা। তবে গত দশ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে বাজার কাঁপাচ্ছে এক টাকার কয়েনই। 

    মামলায় উল্লেখ, ২০১৫-’১৬ অর্থবর্ষে ৪ হাজার ৫০০ কোটি এক টাকার কয়েন ভারতের বাজারে ছিল। ৫ টাকা ও ১০ টাকার কয়েনের ব্যবহার বেড়েছে। তবে ভারতের খুচরো বাজারে ২২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের কয়েন রয়েছে বর্তমানে। তার মাত্র ২৩.৫ শতাংশ ৫ ও ১০ টাকার কয়েন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শহরাঞ্চলের তুলনায় মফস্‌সল ও গ্রামগঞ্জে এক টাকার কয়েনের আধিক্য র঩য়েছে। মুদিখানা, আনাজের বাজার ও খুচরো কারবারিদের কাছে জনপ্রিয়তা রয়েছে বলেই এখনও দাপট হারায়নি এক টাকার কয়েন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় চললেও গ্রামাঞ্চলে আকারে ছোটো এক টাকার কয়েন নিয়ে লেনদেনে অনীহা আছে। অনেকেই আকারে ছোটো এক টাকার কয়েন নিতে আপত্তি করেন। এর ফলে বিস্তর গণ্ডগোলও বাধে। 

    আইনজীবীদের বক্তব্য, রিজার্ভ ব্যাংক স্বীকৃত কোনো ধরনের কয়েন কেউ নিতে অস্বীকার করতে পারেন না। তা করলে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে। আইনে সেই সংস্থানই রয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)