• নাবালিকার পরিবারের কাছে মন্ত্রী ও বিরোধী শিবির, ঋত-তৃণমূলকে শুনতে হল স্লোগানও
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: মৃত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। তবে মঙ্গলবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান শুনতে হল যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকে। গদ্দার, বেইমান বলে গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভও দেখালেন এলাকার বাসিন্দারা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও ‘বালিশচাটা’ স্লোগান শুনে গাড়ি চেপে এলাকা থেকে চলে যান। এদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আজ, বুধবার শর্ত সাপেক্ষে কলকাতার রাস্তায় মিছিলের অনুমতি দিল হাইকোর্ট। নিট থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে মিছিল করতে চেয়ে পুলিশের কাছে অনুমতি চায় কালীঘাট তৃণমূল। অনুমতি না মেলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। মঙ্গলবার হাইকোর্ট জানিয়েছে, আজ বুধবার বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। যে রাস্তা দিয়ে মিছিল যাবে, তার একটি লেন খোলা রাখতে হবে। মিছিলের সময় দুপুর আড়াইটে থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে। মিছিলে হাজার জনের বেশি মানুষ থাকবেন না। লাউড স্পিকারও ব্যবহার করা যাবে না। স্বেচ্ছাসেবকদের নাম আগে থেকে জানাতে হবে পুলিশকে। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে শুনানি হলে শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি দেয় আদালত। দলীয় সূত্রে খবর, বারুইপুর কাণ্ড থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সরব হতেই মিছিলে হাঁটবেন মমতা।   

    অন্যদিকে, এদিন রাজ্যের পুর নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা  পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় সহ ৬ জনের প্রতিনিধি দল নাবালিকার বাবার সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তাঁরা রতনপুর এলাকায় নাবালিকার মায়ের সঙ্গেও দেখা করেন। সেখানে পরিবারের লোকজন ঘটনার দিন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘রাজ্য সরকার সব রকম ভাবে পাশে আছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী পাঠিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী, আইজি নিজে খোঁজ নিচ্ছেন। সরকারের প্রতি আস্থা আছে পরিবারের। ঘটনার তদন্তে পুলিশ প্রশাসনের কারও নাম যদি উঠে আসে, তা বরদাস্ত করা হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে অভিযুক্তদের।’ নাবালিকার মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘পুলিশ আর একটু সক্রিয় হতে পারত। অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই।’ ভাঙরের আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তিনি নাবালিকার বাবার সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। পুলিশের গাফিলতি থাকলে শাস্তি দিতে হবে।’ এরপর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও বিধায়ক শিউলি সাহা। এছাড়াও এসেছিলেন সাংসদ সায়নী ঘোষ ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কাকলিদেবী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের পাঠিয়েছেন। আমরা সবাই পরিবারের পাশে আছি।’ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিআই জেলা শাসককে স্মারকলিপি দেয়। নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন আরএসপির প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। এদিন ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তর নেতৃত্বে পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। ওই এলকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।

    এদিকে, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গ নারীদের জন্য ক্রমশ নিরাপদহীন হয়ে উঠছে। বারুইপুরের ঘটনা ছাড়াও পূর্ব বর্ধমানে এক আদিবাসী মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।’ বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সরব হয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও।
  • Link to this news (বর্তমান)