বারুইপুর: মৃত নাবালিকার স্কুল ভবনই এখন পুলিশের আস্তানা, কালো ব্যাজ পরে শিক্ষক-পড়ুয়াদের শোকজ্ঞাপন
বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মাত্র ছ’মাস আগে কেয়াতলা হাই স্কুলে ভর্তি হয়েছিল সুর্যপুরের নিহত নাবালিকা। গত রবিবার ঘটনার কথা শুনে প্রথমে ছাত্রীকে চিনতে পারছিলেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সবটা জানার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্কুলজুড়ে। সূর্যপুর হাট থেকে কিছুটা দূরের ওই স্কুলের একটি ভবনে এখন পুলিশের আস্তানা। ওই ভবনেই ক্লাস করত নাবালিকা। স্কুল শিক্ষকরা জানালেন, ওই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ওখানে রয়েছে। পাশে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ভবনে মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পড়ুয়ারা এসেছিলেন। বুকে কালো ব্যাজ পরে শোকজ্ঞাপন করেছেন তাঁরা।
প্রার্থনা সঙ্গীতের বদলে এদিন শোকজ্ঞাপনের সময় এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, ওই পড়ুয়া মৃত নাবালিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখেছিল। সেই দৃশ্যই তার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল। সোনারপুর, বারুইপুর ও নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় বিএনএস ১৬৩ (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) লাগু হয়েছে। ফলত, এই মুহূর্তে স্কুলে পঠন-পাঠন বন্ধ। স্কুলের শিক্ষক সঞ্জীব দাস বলছিলেন, ‘গোটা স্কুল শোকে আচ্ছন্ন। এরকম নৃশংসতা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। এদিন আমরা সকলে কালো ব্যাজ পরে ছাত্রীর উদ্দেশে শোক জ্ঞাপন করলাম। আমরা ছাত্রীদের সচেতন থাকতে বলছি। সতর্ক হতে বলা হয়েছে।’ মাস ছয়েক আগে ওই নাবালিকা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। শিক্ষকরা বলছিলেন, নিয়মিত স্কুলে আসত। পড়াশুনাতেও ঠিক ঠাক ছিল সে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কথাও শুনত। সঞ্জীববাবু আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিবাদ মিছিল করার ইচ্ছা রয়েছে। সেটা পুলিশের কাছে আমরা চিঠি দিয়ে আবেদন জানাব। তারপরেই ঠিক হবে।’
স্কুল থেকে এক-দেড় কিলোমিটার দূরে মৃত নাবালিকার পাড়া এদিনও বেশ থমথমে। পথচলতি মানুষজন মৃতার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খানিকক্ষণ দাঁড়াচ্ছিলেন। এলাকায় পুলিশে ছয়লাপ। পাড়ার এক ওষুধের দোকানি বলছিলেন, ‘খুবই মিশুকে স্বভাবের ছিল মেয়েটি। আমার দোকানে প্রায়ই আসত। সকলের সঙ্গে কথাবার্তা বলত। হঠাৎ করে কী যে হয়ে গেল!’ নিজস্ব চিত্র