• শীতলকুচিতে গাড়িতে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি অবস্থান নেত্রীর, ডিম থেরাপির শিকার মীনাক্ষীও, দর্শক পুলিশ
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় ও টোটন বর্মন, কোচবিহার ও শীতলকুচি: তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী-কাউন্সিলারদের পালা শেষ! এবার ‘ডিম থেরাপি’র শিকার সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। এক্ষেত্রেও নীরব দর্শক হয়ে রইল পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে কোচবিহারের শীতলকুচিতে মীনাক্ষীর গাড়িতে ছোড়া হয় ডিম। কারা ছুড়ল? বিজেপির দিকেই আঙুল উঠেছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। গাড়ির ভিতরে বসে উইন্ডস্ক্রিনে একের পর এক ডিম আছড়ে পড়ার ভিডিয়ো নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেন সিপিএম নেত্রী স্বয়ং। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এটাই হচ্ছে বিজেপি। গাড়ি এখানেই দাঁড়াবে। আগে গ্রেপ্তার হবে, তারপর। আমার অপরাধটা কী? রাস্তায় বের হওয়া যাবে না? পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকবে আর যা খুশি চলবে?’ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীতলকুচি বাজারে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    ওই ঘটনার পর মীনাক্ষী সোজা চলে যান কোচবিহারের এসপি অফিসে। ডিএসপি হেডকোয়ার্টারের কাছে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। কিন্তু উপযুক্ত আশ্বাস না পেয়ে এসপি অফিসের বারান্দার সিঁড়িতে বসে পড়েন তিনি। ঘণ্টাদেড়েক চলে তাঁর অবস্থান বিক্ষোভ। পরে এসপি অফিস থেকে বেরিয়ে মীনাক্ষী বলেন, ‘এসপি বলেছেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপর ধরনা তুলেছি।’ রাজ্যে পালাবদলের পর শুরু হওয়া এই ‘ডিম থেরাপি’কে প্রথমে জনরোষ বলেই চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে তা বিজেপির ‘ট্রেডমার্ক’ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এতদিন তবু এর শিকার হচ্ছিলেন তৃণমূল নেতারা। এবার মীনাক্ষীও। কিন্তু কেন? সিপিএম নেতারা বলছেন, কোনো বিরোধী দলই বিজেপির আক্রমণের হাত থেকে বাঁচবে না।

    গত রবিবার শীতলকুচি ব্লকের চানঘাটে নির্মীয়মাণ সেতুর কাছে খুটামারা নদীতে উদ্ধার হয় সিপিএম কর্মী মন্টু মিয়াঁর (৫০) দেহ। হাট থেকে গোরু নিয়ে যাওয়ার কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এদিন সকালে নগর সিঙিমারি গ্রামে ’ গিয়ে মন্টুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মীনাক্ষী। পরে তিনি বলেন, সরকার পালটালেও পশ্চিমবঙ্গে খুন-ধর্ষণের রাজনীতি বন্ধ হয়নি। হাটে কেউ গোরু কেনাবেচা করলে মন্টু তা পৌঁছে দিতেন। আমরা চাই, পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনুক। কেউ জড়িত থাকলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ পুলিশ প্রথমে পরিবারের অভিযোগ নিতে চায়নি বলেও দাবি করেছেন সিপিএম নেত্রী। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

    ওই গ্রাম থেকে ফেরার পথে শীতলকুচি চৌপথিতে মীনাক্ষীর গাড়ি ঢুকতেই শুরু হয় ডিম বর্ষণ। সঙ্গে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। কিছুক্ষণ সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে মীনাক্ষীর গাড়ি। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই গোঁসাইরহাট বাজারে সিপিএমের পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। মীনাক্ষীর উপর ডিম হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের তরফেও নিন্দা করা হয়েছে। গেরুয়া হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা। তবে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের সাফ বক্তব্য, ‘বিজেপির লোকেরা এসব করেনি। সিপিএম এখানে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে।’ যদিও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
  • Link to this news (বর্তমান)