• ১৯৮০ সালে জঙ্গল কেটে তৈরি, ভাঙা পড়ল ৪৬ বছরের দোকান
    বর্তমান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ১৯৮০ সাল। সন্ধ্যা হলে শিয়ালের ডাকে কান পাতা দায়। তৈরি হয়নি যুবভারতী স্টেডিয়াম। তৈরি হয়নি পুরভবন। হাতে গোনা কিছু বাড়ি হয়েছে। তখন জঙ্গল কেটে খাবারের দোকান করেছিলেন বীরেন্দ্র দাস। তিনি এসেছিলেন সুন্দরবন থেকে। তারপর এফ ডি ব্লকে দোকান। তিনি মারা গিয়েছেন ১০ বছর হল। তারপর দোকান চালাচ্ছিলেন তাঁর ছেলে সুশান্ত। ফুটপাতের ধারে সেই এক চিলতে দোকানই ছিল পরিবারের আয়ের একমাত্র সম্বল। দিন পনেরো আগে পুরসভা থেকে তাঁদের উঠে যেতে বলা হয়েছে। তারপর দোকান খালি করে দিয়েছিলেন তাঁরা। মঙ্গলবার বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হল একাধিক দোকানের শেড। ৪৬ বছর পর দিশাহারা বীরেন্দ্রর ছেলে সুশান্ত। তাঁর সঙ্গে আরও অনেক দোকানদার। পুজোর আগে কোনো উচ্ছেদ নয়, এ কথা শুনেছিলেন তাঁরা। তারপর খানিক ভরসাও পেয়েছিলেন। এখন ভ্যান নিয়ে তাঁদের মৌখিকভাবে বলা হয়েছে বসতে। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়েছে ১০টিরও বেশি পরিবার।

    সুশান্তর বাবা যখন দোকান করেছিলেন তখনও বিধাননগর পুরভবন তৈরি হয়নি। এখন তাঁর দোকান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুরভবন। এফ ডি ব্লকের মাঠের ধার তাঁরা ব্যবহার করতেন। সামনে ফুটপাত। চা, খাবার, ভাত, ফাস্ট ফুড সবই পাওয়া যেত। সেখানে স্ট্রিট ফুড খেতে অনেকেই আসতেন। বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে স্পেশাল চায়ের জন্য ভিড় জমে যেত। দোকানদাররা বলেন, সপ্তাহ দু’য়েক আগে আমাদের উঠে যেতে বলা হয়েছিল। আমরা মালপত্র সরিয়ে নিয়েছিলাম। কয়েকজন ভ্যান নিয়ে বসছিলেন। তবে মাথার উপর সবার শেড ছিল। বৃষ্টিতে উপকার হত।

    মঙ্গলবার বুলডোজার দিয়ে দোকানগুলি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারপর থেকেই শুরু দুশ্চিন্তা। সুশান্তবাবু সহ কয়েকজন দোকানদার বলেন, আমাদের মৌখিকভাবে বলা হয়েছে ফুটপাত ফাঁকা রেখে ভ্যান নিয়ে দোকান করতে। কোনো কাঠামো বানানো যাবে না। আমরা কারও অসুবিধা করছিলাম না। কিন্তু তাও আমাদের উপর কোপ পড়ল। সুশান্ত বলেন, বাবা ’৮০ সালে দোকান করেছিলেন। এতদিন পর উঠে যেতে হবে ভাবিনি। এখন সরকারের দিকে তাকিয়ে আছি। আশা করি, একটা সুরাহা করবে তারা। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)