এই সময়: নারী নির্যাতনের ঘটনায় কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবারই বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরে উদ্বিগ্ন নবান্ন পুলিশকে এই ধরনের ঘটনায় জ়িরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের নির্দেশ আবার মনে করিয়ে দিল। নারী নির্যাতনের ঘটনায় তদন্তের ব্যাপারে একাধিকবার গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
বারুইপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে নবান্ন এই গাইডলাইনটি নতুন করে সংস্কার করার কাজে হাত দিল। যার মূল কথাই হলো, নারী নির্যাতন সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ এলেই পুলিশকে অ্যাকশন নিতে হবে। এ নিয়ে কোনওরকম টালবাহানা করা যাবে না। প্রসঙ্গত, বারুইপুরের ঘটনায় নাবালিকার নিখোঁজ ডায়েরি করার পরেও প্রাথমিক ভাবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই কঠোর মনোভাব নিচ্ছে নবান্ন।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে খবর, এই গাইডলাইনে নারী নির্যাতন সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশকে কী করতে হবে, তা বিশদে বলা হচ্ছে। এ নিয়ে কোনও ভাবেই দেরি করা যাবে না। দ্রুত এফআইআর করে তদন্ত শুরু করতে হবে।
যদি কোনও মহিলাকে অপহরণ করে ধর্ষণ বা খুন করা হয়েছে বলে তথ্য আসে, কিন্তু তখনই হয়তো সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না, তখন পুলিশকে প্রথমেই নিখোঁজ ডায়েরি করে তদন্ত শুরু করতে হবে, কোনও ভাবেই সেই ডায়েরি ফেলে রাখা যাবে না। অপহরণ, ধর্ষণ বা খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই সে ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে এফআইআর করতে হবে।
তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নবান্নের গাইডলাইনে এটাও বলা থাকছে যে, নারী নির্যাতনের যে কোনও ঘটনায় এমন ভাবে চার্জশিট তৈরি করতে হবে, যাতে অভিযুক্ত আইনি কৌশলে আদালত থেকে রেহাই না পেয়ে যায়। এমন ভাবে চার্জশিট তৈরি করতে হবে, যাতে খুন–ধর্ষণের মতো ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী অভিযুক্তের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা সর্বোচ্চ শাস্তি আদালতে নিশ্চিত করা যায়। নারী নির্যাতনের মতো ঘটনার তদন্তে সুপিরিয়র অফিসারদের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে বলেও পুলিশকে সতর্ক করা হচ্ছে নবান্নের তরফে।