• বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ-খুনে চতুর্থ গ্রেপ্তারি, পুলিশের ওপর হামলায় ধৃত ২০
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কবীর মোল্লা নামে আরও এক মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF), বারুইপুর এসওজি (SOG) এবং জেলা পুলিশ। কবীরের গ্রেপ্তারির পরে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। তবে ইতিমধ্যেই পালানোর চেষ্টা করায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ধৃত প্রভাস মণ্ডলের।

    পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করছিল অভিযুক্ত কবীর মোল্লা। গোপন সূত্রে তার হদিস পেয়ে পুলিশ ও বিশেষ টাস্ক ফোর্সের যৌথ বাহিনী বসিরহাটে অভিযান চালায়। ধৃতকে ইতিমধ্যেই বারুইপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনায় তার ঠিক কী ভূমিকা ছিল এবং অপরাধের পিছনে আর কারা জড়িত, তা জানতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কবীর মোল্লাকে ধরে এই মামলায় মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা দাঁড়াল চার। ঘটনার মূল চক্রীদের কাউকেই আড়াল করা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। এ দিকে পালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর পরে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

    অন্য দিকে, এই নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে দফায় দফায় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এক পর্যায়ে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং উত্তেজিত জনতা কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

    সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর এই হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরেই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিয়ো ক্লিপ খতিয়ে দেখে বাকি হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছে পুলিশ।

    বারুইপুর জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনার তদন্ত যেমন অত্যন্ত গুরুত্ব ও দ্রুততার সাথে চালানো হচ্ছে, ঠিক তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাতেও কাউকে রেয়াত করা হবে না। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)