• বারুইপুর কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু
    আজকাল | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় বড় মোড়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় প্রভাস পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটকাতে গুলি চালায়।

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত হঠাৎই পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সতর্ক করা হলেও সে না থামায় বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রভাস মণ্ডল সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিল। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    এই এনকাউন্টারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এদিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়। তবে পুলিশের এই বিবরণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার তদন্ত এবং সরকারি রিপোর্ট প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

    প্রসঙ্গত,  রবিবার সকালে সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ তাঁকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দোষীদের গ্রেপ্তারি এবং কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন এলাকাবাসী। ওই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে আটক হন প্রভাস। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। ধর্ষণ-খুনের মামলায় সেটাই ছিল প্রথম গ্রেপ্তারি।

    স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শনিবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার আগে ধৃতের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ওই নাবালিকাকে। সেই অভিযোগের তদন্তে পুলিশের হাতে আসে এলাকার কিছু সিসিটিভি ফুটেজ । ফুটেজে নাবালিকার সঙ্গে এক যুবককে দেখা গিয়েছিল। পরে তদন্তে জানা যায় ওই যুবক ছিলেন প্রভাস। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁকে। পুলিশের দাবি, তদন্তে কোনও রকম সহযোগিতা করছিলেন না প্রভাস। তদন্তকারীদের নানা প্রশ্নের উত্তর ভুলভাল দিচ্ছিলেন। কী ঘটেছিল, প্রভাসের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে পুলিশ। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (আজকাল)