‘ওর মৃতদেহ দেখতে চাই না’, বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মা
আজকাল | ০৮ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের বহুল আলোচিত মামলায় বড় মোড়। তদন্তের স্বার্থে অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে এক রাউন্ড গুলি চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয় প্রভাস।
তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিজের ছেলের মৃতদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকার প্রভাসের মায়ের। বুকফাটা কান্নায় তিনি বলেন, ও যা কাজ করেছে তার সেই কাজের শাস্তি পেয়েছে। পুলিশ বাড়িতে এসেছিল এসে বলেছে, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে প্রভাসের আপনারা চাইলে মৃতদেহ দেখতে যেতে পারেন! আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি আমরা দেখতে যাব না। ওর মৃতদেহ আমরা গ্রহণ করব না ও যে দোষ করেছে সেই দোষের শাস্তি পেয়েছে। পরিবারের লোকেদের কথা শুনত না বিশ্বাস করেন আমি মা মায়ের কথাও শুনত না। নেশা করত আর তার পরিণতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারুইপুর থানার তদন্তকারী আধিকারিক এবং তাঁর টিম প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যপুর এলাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য ছিল অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা, অভিযুক্তের গতিবিধি এবং অপরাধ সংঘটনের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগে আচমকাই প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয়। এরপর সে পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় এবং অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তের গুলিতে যাতে পুলিশকর্মী বা অন্য কারও প্রাণহানি না ঘটে, সেই কারণেই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশের গুলিতে প্রভাস মণ্ডল গুরুতর জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনার পরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজের খোল এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও খবর দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়েও প্রয়োজনীয় তদন্ত হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ, উত্তেজনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তদন্তে নেমে পুলিশ এই মামলায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। প্রভাস মণ্ডলকে এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের মতে, অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ঘটনার সময় অভিযুক্তের অবস্থান, চলাফেরা এবং অপরাধ সংঘটনের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার জন্য এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার গভীর রাতে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের দাবি।
এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ব্যালিস্টিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তদন্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।