চোখে কালো পট্টি, তবুও সাঁই সাঁই করে ছুটছে সাইকেল, অনায়াসেই পড়ে দিচ্ছে বই! বেলদার খুদেদের চমক
News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
: চোখে বাঁধা নিশ্ছিদ্র কালো কাপড়। দৃষ্টি পুরোপুরি অবরুদ্ধ। অথচ সেই অবস্থাতেই অনায়াসে বইয়ের পাতা থেকে আস্ত বাক্য পড়ে ফেলছে কচি ছেলেমেয়েরা। শুধু বই পড়াই নয়, তারা চোখের সামনে রাখা বস্তুর রং, সংখ্যা থেকে শুরু করে ঘড়ির নিখুঁত সময়ও বলে দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, দৃষ্টিহীন অবস্থাতেই অবলীলায় ঘাঁটছে স্মার্টফোন, এমনকি রাস্তার উপর দিয়ে নির্ভুলভাবে সাইকেলও চালিয়ে যাচ্ছে। কোনও জাদুমন্ত্র বা আধ্যাত্মিক বুজরুকি নয়, সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঠিক এমনই এক বিস্ময়কর কাণ্ড ঘটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার একদল শিশু।
প্রথম দর্শনে গোটা বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য বলে মনে হলেও, এটি ঘোর বাস্তব। জানা গিয়েছে, বেলদার স্থানীয় এক দম্পতির দেওয়া বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের জেরেই এই অসাধ্য সাধন করছে প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির একঝাঁক পড়ুয়া। জীববিজ্ঞানের মতে, মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়— চোখ, কান, নাক, জিভ এবং ত্বক। দৈনন্দিন জীবনে আমরা দর্শনের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল থাকি। কিন্তু ওই প্রশিক্ষক দম্পতির দাবি, নির্দিষ্ট কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মানসিক ও বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটালে মানুষের বাকি ইন্দ্রিয়গুলিকেও অত্যন্ত প্রখর ও সজাগ করে তোলা সম্ভব।
এই খুদেরা আজ সেই তত্ত্বেরই হাতেকলমে প্রমাণ দিচ্ছে। তাদের চোখ যখন পুরোপুরি ঢাকা থাকছে, তখন তারা স্পর্শ, গন্ধ বা শ্রবণের মতো অন্যান্য অনুভূতিগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের চারপাশের পরিবেশকে নিখুঁতভাবে চিনে নিতে পারছে। মস্তিষ্কের বিশেষ এই প্রশিক্ষণ তাদের এই অসাধারণ ক্ষমতা প্রদান করেছে।
খুদে প্রতিভাদের এই অসামান্য কীর্তি দেখে কার্যত হতবাক বেলদার সাধারণ মানুষ। যেখানে দৃষ্টিহীন মানুষদের পথ চলতে অন্যের সাহায্য বা লাঠির ওপর নির্ভর করতে হয়, সেখানে এই কচি ছেলেমেয়েরা চোখের ওপর নিশ্ছিদ্র আবরণ রেখেও কোনও অবলম্বন ছাড়াই যেভাবে নির্ভুলভাবে সাইকেল চালাচ্ছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গোটা এলাকা জুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কুসংস্কার বা অলৌকিকত্বের মতো ভ্রান্ত ধারণাকে দূরে সরিয়ে রেখে, খুদেদের এই বিজ্ঞানভিত্তিক অসামান্য প্রতিভাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সকলে। আগামী দিনে এই প্রশিক্ষণ আরও বড় চমক আনবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।