মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরই এবার বারুইপুরে গণপিটুনি কাণ্ডে সক্রিয় পুলিশ৷ বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতনে জড়িত থাকার সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক নিরীহ যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে৷ মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে পেশায় অটোচালক ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে হত্যার বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনার মতোই পিটিয়ে নিরীহ ইন্দ্রজিৎকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদেরও রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পরই মঙ্গলবার রাতে গণপিটুনিতে অভিযুক্তদের খোঁজে পুaলিশ রাতভর তল্লাশি চালায়৷ একাধিক জায়গায় হানা দেয় পুলিশ৷ গণপিটুনির ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে রাতেই আটক করা হয় তিন জনকে৷ পুলিশ সূত্রে খবর ইতিমধ্যেই গণপিটুনির ঘটনায় যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তার পরই অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷
গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার পুকুর থেকে ১১ বছরের নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা৷ রেল লাইন, রাস্তা অবরোধের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের খোঁজ শুরু করে উন্মত্ত জনতা৷ আর তা করতে গিয়েই পেশায় অটোচালক সূর্যপুরেরই বাসিন্দা বছর তিরিশের যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে চড়াও হয় বিক্ষোভকারীদের একাংশ৷ পুলিশ সূত্রে দাবি, নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় ইন্দ্রজিৎ যে কোনওভাবে জড়িত ছিলেন না, তা তদন্তে উঠে এসেছে৷ কিন্তু সেদিন উন্মত্ত জনতা ইন্দ্রজিৎকে তাঁর বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এনে গণপিটুনি দিতে শুরু করে৷ কোনওক্রমে ইন্দ্রজিৎকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷
স্থানীয় সূত্রে খবর, বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন এবং খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে মাঝেমধ্যে ইন্দ্রজিতের অটোয় চড়ে এলাকায় ঘুরতে দেখা যেত৷ আর শুধুমাত্র এই কারণেই উন্মত্ত জনতার আক্রোশের শিকার হন ইন্দ্রজিৎ৷ বিক্ষোভকারীদের একাংশ ধরে নেয়, তিনিও এই ঘটনায় জড়িত৷ ছেলেকে পিটিয়ে খুন করেছে যারা, তাঁদের কঠোর শাস্তি দাবি তুলেছেন ইন্দ্রজিতের মা৷ মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে ইন্দ্রজিতের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবিবাহিত একটা বাচ্চা ছেলে, তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল৷ যারা মেরেছে তাদেরকেও খুনের মামলায় যুক্ত করতে বলেছি৷ যারা যারা গুন্ডামি করেছে সারাদিন ধরে, ২০০-র বেশি লোককে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ যাঁরা উস্কানি দিয়েছে, সমাজমাধ্যমে সস্তার ভিউয়ারশিপ বাড়ানোর জন্য, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ পুলিশের গাড়ি ভেঙেছেন, রেল লাইন উপড়েছেন, প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে৷ কাউকে ছাড়া হবে না৷ পিছন থেকে যারা উস্কেছে তার মধ্যে দেশবিরোধী শক্তিকে, রাজনৈতিক শক্তিও রয়েছে৷ কেউ শূন্য থেকে ১ হয়েছে, কেউ ক্ষমতা থেকে সরেছে৷ কারওকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে৷