বুধবার ফের রাস্তায় নামছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। নির্দিষ্ট সময় ও রুট মেনে কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই মিছিলের অনুমতি দিয়েছে। ফলে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে এই মিছিল করতে আর বাধা রইল না। যদিও মিছিল করার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত দিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।
কী কী শর্ত দেওয়া হয়েছে?
নির্দিষ্ট রুট মেনেই মিছিল করতে হবে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে। পাশাপাশি সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও থাকতে হবে সীমার মধ্যে।
কখন, কোন রুটে হাঁটবেন মমতা?
মিছিল শুরু হবে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে এবং শেষ হবে হাজরা মোড়ে। মিছিল চলাকালীন রাস্তার অন্তত একটি লেন যান চলাচলের জন্য খোলা রাখতে হবে। বুধবার দুপুর ২.৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ৩০ পর্যন্ত এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের তরফে স্পষ্ট নির্দেশে বলা হয়েছে, এক হাজারের বেশি মানুষ এই মিছিলে অংশ নিতে পারবে না। যদিও কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে এই মিছিল হবে তা এখনও খোলসা করেনি কালীঘাট তৃণমূল। তবে বারুইপুরের ঘটনা নিয়েই যে এই মিছিল হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মিছিলকে কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের এই ব়্যালিকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "ওনার সঙ্গে কেউ নেই। একা মিছিলে হেঁটে কী করবেন? নিজের পুরো জীবনটা এই ধরনের রাজনৈতিক নাটক আর লোকদেখানো আচরণ করেই কাটিয়ে দিয়েছে—আর কিছুই না। ওনার দলের লোকেরাও ওনাকে আর নেত্রী বলে মনে করে না।"
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কালীঘাটে মোমবাতি মিছিল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মিছিল নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মমতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, নিজের শাসনকালে হাজার হাজার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তিনি কখনও পথে নামেননি।
দিলীপ বলেন, "মানুষ ওঁকে বিরোধী আসনে বসার সুযোগ দিয়েছে। উনি এতটাই জনপ্রিয় নেত্রী যে নিজে জিততে পারেননি। এখন রাস্তায় নেমে নাটক করছেন। আপনি বিরোধী দলে আছেন, প্রতিবাদ কীভাবে করতে হয় তা জানেন। সারাজীবন তো তাই করেছেন। উন্নয়নের আপনি কিছুই বোঝেন না। ওঁর আমলে হাজার হাজার ধর্ষণ, খুন হয়েছে। তখন কি ওঁকে কখনও রাস্তায় নামতে দেখেছেন? কোনও নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানাতে? না, দেখেননি।"