• রচনা-ঋতুপর্ণাদি'কে এত ছোট করার কী অর্থ বুঝে পাই না - কনীনিকা
    eTV Bharat | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • কলকাতা, 8 জুলাই: অনেকদিন পর মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনায় ফিরেছেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Koneenica Banerjee)। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর নৃত্যশৈলীর কথা অজানা নয় কারোরই। 'কল্যাণ সুন্দরিকা' শীর্ষক নৃত্যনাট্যে দেবী অন্নপূর্ণার চরিত্রে রয়েছেন তিনি। এই নৃত্যনাট্যের দ্বিতীয় শো আগামী 12 জুলাই উত্তম মঞ্চে।

    ইটিভি ভারত: অনেকদিন পর নাচের মঞ্চে ফিরলেন।

    কনীনিকা: হ্যাঁ, অনেকদিন পর। এর জন্য আমি সৈকতের কাছে কৃতজ্ঞ। ও আমাকে একবার বলাতেই আমি রাজি হয়ে যাই। আমার মা অন্নপূর্ণা পুজো করতেন। পাড়ায় অন্নপূর্ণা পুজো মা প্রথম শুরু করেছিলেন। শেষদিকে অসুস্থতার কারণে মা বেরিয়ে আসেন। এই শো'টি করা কোথাও গিয়ে মা অন্নপূর্ণাকে জানতে পারা। আমার মাকে একটা সময়ে সবাই মা অন্নপূর্ণার সঙ্গে তুলনা করত। কেননা মায়ের কাছে কেউ এলে কখনও খালি হাতে বা খালি পেটে ফেরত যেতে পারত না। সেটা কোথাও গিয়ে আমাকে নাড়া দিয়েছে এই কাজটা করতে। মা অন্নপূর্ণার সাইকোলজি জানার খুব ইচ্ছা আমার।

    ইটিভি ভারত: নাচ কি মাঝখানে বন্ধ ছিল?

    কনীনিকা: নাচ আমার জীবন থেকে চলে যাবে না কখনও। তবে, বিয়ের পর জীবনে একটা বদল আসে। তখন আমার ভালোলাগাগুলো একটু তো একপাশে চলে গিয়েছিল বটেই। নাচ বেঁচে ছিল আমার নিজের মধ্যে। যখন একা থাকতাম, আমি নাচতাম। সেটা শুধু নিজের জন্য। একবার ভেবেছিলাম রিল বানাবো। কিন্তু এখন এত মানুষ রিল বানায়, যে আমার আর ইচ্ছা করে না। নাচটা তাই নিজের একান্ত জায়গাতেই রেখে দিয়েছি। নাচ আমার ভিতরটাকে আনন্দ দেয়। নাচ আমাকে ভালো রাখে। মেয়ে কিয়াকে চেষ্টা করি নাচের মধ্যে রাখতে। কোনও কম্পিটিশনে যাওয়ার জন্য নয়, নিজেকে ভালো রাখার জন্য।

    জীবন যুদ্ধে কখনও ক্লান্ত লাগলে, শ্রান্ত লাগলেও নাচ, গান ভালো থাকার রসদ জোগায়। অনেকদিন ধরেই চাইছিলাম কেউ যদি আমাকে কোনও অনুষ্ঠানে নেয়। তখনই সৈকত আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমি একবারও ভাবিনি। এটা দ্বিতীয় শো আমাদের। সৈকতের মধ্যে একটা পাগলামি আছে। তাই গোটা বিষয়টা একা নামিয়ে ফেলছে। আমাদের কোনও স্পনসর নেই। আমাকে স্পনসর জোগাড় করে দেওয়ার কথাও বলেনি সৈকত। নিজের টাকা দিয়েই এই শো নামাচ্ছে সৈকত। এখন যে কোনও অনুষ্ঠানে আমরা কত স্পনসরের লোগো দেখতে পাই। এখানে কোনও স্পনসর নেই। কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে লড়ে যাচ্ছে সৈকত। আমিই ওদের বলি, লোকের কাছে এটা প্রচার করতে জবে সংবাদ মাধ্যম মারফত। লোকে না জানলে আসবে কীভাবে দেখতে? লোক দেখতে এলে সৈকতেরও কিছুটা টাকা উঠে আসবে।

    ইটিভি ভারত: পুজোর আগেই আসছে 'অন্নপূর্বা সুন্দরিকা'। টিভিতে মহালয়ার কনসেপ্টটাই পাল্টে গিয়েছে আজ। মা দুর্গার কনসেপ্টও বদলে গিয়েছে। এই নিয়ে আপনার কী মত?

    কনীনিকা: কলকাতা দূরদর্শনে সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা দুর্গার রূপ আমরা কেউ এখনও ভুলিনি। মা দুর্গা তাঁকেই বলে যাকে কেউ ভোলে না। চোখ বন্ধ করলেও যার মুখ চোখে ভাসে। আমার বন্ধু বান্ধবরা অনেকেই মা দুর্গার চরিত্র করেছেন। মা দুর্গাকে নিয়ে পড়লে জানতে পারবে মায়ের শারীরিক গঠন রোগা পাতলা নয়। তিনি নিতম্বহীন নন। তাঁর সুন্দর, লাস্যময়ী শরীর। তাঁর মধ্যে দমন করার ক্ষমতা আছে। ঠিক আমাদের মায়েদের মতো। যাদের মধ্যে সব দিক সামলানোর ক্ষমতা আছে। ছোটবেলায় টিভির মহালয়া মানেই ওটা ছিল দূরদর্শনের মহালয়া। আজও ভুলিনি। এখনও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠে মহালয়ার দিন 'মহিষাসুরমর্দিনী' শুনি। আমার মেয়েও শোনে। আমার তো মনে হয় তারও সন্তান শুনবে'। সেই সময়ের সাধারণ নৃত্যনাট্যের মহালয়া এখনও টিকে আছে মানুষের মনে। কেননা তার মধ্যে নবরস ছিল। এখন মায়ের বিভিন্ন রূপ ধরা দেয় না ঠিকমতো। সাজলেই তো হবে না। তাকে তো অভিনয়ওটাও করতে জানতে হবে। আমি কাউকে ছোট করছি না। সবাই আমার বন্ধু। তবে যেটা সত্যি সেটা সত্যি। সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই মহালয়া আবার টিভিতে দেখালে আমি দেখব।

    ইটিভি ভারত: সমাজটা অনেক পাল্টে গেছে। ট্রোল করা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়কেও নাচ নিয়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে। বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন আপনি?

    কনীনিকা: আমি বলব, যাঁরা ট্রোলড হচ্ছেন তাঁরা যেন কমেন্টগুলো না পড়েন। কেননা এই কাজগুলো যারা করে তাদের জীবনে অনেক হতাশা আছে বলেই করে। তাদের নিজস্ব অনেক কামনা বাসনা আছে যা পূরণ হয়নি। তাই তাদের হাতে অঢেল সময়। তাই তারা অন্যকে কটাক্ষ কর‍তে বসে। উদাহরণ দিয়ে বলি, আজ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আরবানাতে থাকে তাতে কার কী এলো গেল? সে যদি বলেও থাকে। তাতে কী আসে যায়? তাকে এত ছোট করার অর্থ কী আমি মানে বুঝে পাই না। সে তো সত্যিই অনেক খেটে আজ এই জায়গায়। সত্যিই অনেকগুলো সিনেমা করেছে, সত্যিই অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে বাংলা থেকে গিয়ে উনি সিনেমা করেছেন আমরা সবাই জানি। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম দেখি 'কাঁচের দেওয়াল' ধারাবাহিকে। অনেক খেটেছে এই সিনেমা জগতে।

    আজ সে একটা দলে যোগ দিয়েছে বলে সে নেগেটিভ মানুষ হয়ে গেল! আমরা মানবিক জায়গা থেকে কি ঠিক কাজ করছি? ঋতুদি একটা সুন্দর পোশাক পরে যদি নিজেকে ক্যারি করতে পারে কার কী এলো গেল? সে পেট চেপে রাখছে কিনা, দম বন্ধ করে রাখছে কিনা, ক্লিভেজ দেখা যাচ্ছে কিনা তাতে কার কী? সেই নিয়েও মিমিক্রি? ভাই নিজে কিছু করে দেখানোর দম রাখো। অন্যকে ছোট করে কী বড় হওয়া যায়! জানি না। আমি ট্রোলিংটাকে পজিটিভ দিক থেকে দেখি। এত বড় একটা শো শুরু হল সবাই রচনাদি'র কথাই বলে যাচ্ছে। যে করছে তার কথা বলছে না। ঋতুদি যা-ই করুক না কেন, সবসময় নিউজে আছে সে। আর কী চাই? নেগেটিভ পাবলিসিটিও পাবলিসিটি। তাই যে যা বলছে বলতে দাও। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও চারটে বাজে কথা বলে লোকে আনন্দ পায়। আরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বুঝতে হবে ভাই। অনেক খেটে আজ জায়গাটা তৈরি করেছে। তাকে ছাপিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলে ঠিক আছে। কিন্তু ট্রোলিং? আমাদের এক বন্ধু প্যান্ডেমিকের সময় নাচ করা নিয়ে যে কী পরিমাণ ট্রোলড হয়েছিল কল্পনা করতে পারবে না। পরে সে মারা যায়। একটা মানুষ যদি ভালো থাকার জন্য নাচে সেটা নিয়েও ট্রোলিং?

    ইটিভি ভারত: নিজের কি নাচের দল গড়ার ইচ্ছা আছে?

    কনীনিকা: না। এখন আমি ফুলটাইম বাড়ির আর পার্ট টাইম বাইরের কাজের। মেয়ে ক্লাস টু। কোনওদিন একটা সাবজেক্ট না পড়ালে মাথার মধ্যে সেটা চলতে থাকে। মেয়ে ক্লাস নাইনে উঠলে আমিও নাইনে উঠব। ঈশ্বর বা ইউনিভার্স বলে কিছু থেকে থাকলে নাচ করে আমি যে আনন্দ পাই তার ব্যবস্থা উনি করে দেবেন।

    ইটিভি ভারত: নতুন সরকার রাজ্যে আসার সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে যে বদল আনা হচ্ছে তা নিয়ে খুশি?

    কনীনিকা: ছয় মাস না গেলে বোঝা যাবে না। এখন থিওরি চলছে। প্র‍্যাক্টিকাল না হলে বোঝা যাবে না। আশা রাখছি যা ঘটেছে তা যেন আর না ঘটে। এরকম ঘটার সিচুয়েশন তো আমরাই তৈরি করে দিয়েছি। এরকম সিচুয়েশন তৈরি হলে যেন আর করতে না দিই। সবাই যেন রুখে দাঁড়াই।
  • Link to this news (eTV Bharat)