• এনকাউন্টারে মৃত্যু বারুইপুরের নাবালিকার ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনে এনকাউন্টারে মৃত্যু অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। সেই সময় অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পালানোর সময় তিনি পুলিশের উদ্দেশে এক রাউন্ড গুলিও চালান বলে অভিযোগ। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি করে এবং তাতেই জখম হন প্রভাস। তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে তদন্তকারী আধিকারিকেরা প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে যান। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা পুনর্নির্মাণের উদ্দেশেই তাঁকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময়ই প্রভাস পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি চালান বলে পুলিশের দাবি। এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ। তাঁকে গণধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা প্রভাসকে আটক করে। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধর্ষণ-খুনের মামলায় তিনিই ছিলেন প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত।

    স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই নাবালিকাকে প্রভাসের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে তদন্তে এলাকার কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে আসে। যদিও ওই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক স্টেটসম্যান। ফুটেজে এক যুবকের সঙ্গে নাবালিকাকে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। পরে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই যুবকই প্রভাস মণ্ডল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রভাস কোনও সহযোগিতা করছিলেন না এবং বিভিন্ন প্রশ্নের বিভ্রান্তিকর উত্তর দিচ্ছিলেন। তাঁর ভূমিকা জানতে এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাই করতেই পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    এদিকে, একই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকা থেকে এসটিএফ, বারুইপুর এসওজি এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে ধরা হয়। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে বারুইপুর এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ঘটনায় তাঁর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তার পর ধর্ষণ-খুনের মামলায় মোট গ্রেপ্তার বেড়ে দাঁড়াল চার। এর আগে প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

    অন্যদিকে মঙ্গলবার বারুইপুলে গিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরের পুলিশ সুপারের দপ্তরে বৈঠকের পর তিনি বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসম জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভের নামে যে ভাঙচুর ও অশান্তির চালানো হয়েছে, তারও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। শুভেন্দুর দাবি, ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রায় ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পর পুলিশ জানায়, পুলিশের উপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)