• সিনেমা গাছের বীজটা পুঁততে পারি, দর্শকদের হাতে জল-বাতাস: কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়
    এই সময় | ০৮ জুলাই ২০২৬
  • প্রথম পর্বের সাফল্য ও দর্শকদের চাহিদায় তৈরি হয়েছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ‘এই সময়’ সংবাদপত্রের অফিসে এসে তাঁর পরের ছবি ও নানা বিষয় নিয়ে আড্ডা দিলেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। শুনলেন আরাত্রিকা দে

    অন্য সময় প্রাইম: ‘অর্ধাঙ্গিনী’ তৈরির সময়েই কি দ্বিতীয় পর্বের ভাবনাও ছিল?

    কৌশিক: আসলে ‘অর্ধাঙ্গিনী’ তৈরি করার পরে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমি আগেও এত বছর ধরে আরও অনেক-অনেক ছবি বানিয়ে এসেছি। কারণ ওই সময়ে রাস্তাঘাটে কিংবা যেখানেই বেরোচ্ছি শুধুই ‘অর্ধাঙ্গিনী’ নিয়ে আলোচনা। এতটা চর্চা আমিও আশা করিনি। আরও অবাক হয়েছিলাম, তার কারণ সেই সময়ে ‘বাহুবলী-টু’ রিলিজ় করেছিল। সেটার সঙ্গে কমপিট করে এমন জয় আমায় নতুন করে দ্বিতীয় পর্ব আনতে বাধ্য করল। প্রথম থেকেই একটা ভাবনা ছিল যে এটার দ্বিতীয় পর্ব হওয়া উচিত। কিন্তু সিনেমা তো একটা গাছের মতো, আমি বীজটা পুঁতে দিতে পারি, কিন্তু দর্শক তাতে জল-আলো-বাতাস দিলে তবেই সেই গাছ বড় হবে। তাই তো বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।

    অন্য সময় প্রাইম: আবারও প্রাক্তন-বর্তমান মুখোমুখি, জীবনের অঙ্কে কারা জেতেন?

    কৌশিক: মানুষ ভুলে যায়, জীবনের সবকিছু হারিয়ে যেতে পারে। সম্পর্ক হোক বা বন্ধুত্ব। কেউ চাইলেও অতীত নষ্ট করতে পারবে না। আমরা অস্বীকার করতে পারি হয়তো। আসলে সম্পর্কের কম্বিনেশনগুলো এককথায় বোঝানো প্রায় অসম্ভব। মানুষ হয়তো অনেক কিছুকে এড়িয়ে যেতে চান, কিন্তু তাতে সেটা মিথ্যে হয়ে যায় না। আমি শুধু একটা কথাই বলব, কাগজে-কলমে কোনও সম্পর্ক মেলাতে যাবেন না। হয়তো মন সব সময়ে যা চায় তা করা সম্ভব হয় না। কারণ জীবনে আরও কিছু মানুষ জড়িয়ে যায়। তাকে কষ্ট দেওয়া সম্ভব নয় বলে অনেক কিছু আমাদের এড়িয়ে যেতে হয়। কিন্তু জীবনটা এত সুন্দর নিজের সঙ্গে যখন কথোপকথনে জড়াই তখন তো মিথ্যাচার করা চলে না। কারও যদি তাঁর প্রাক্তনকে দেখে বুকে ব্যথা করে ওঠে কিংবা তোলপাড় হয়ে যায় সবটা, সেটাকে হয়তো তিনি প্রশ্রয় দিলেন না কিন্তু ওই কিছুক্ষণের না পাওয়াটাকে তো ফেলে দেওয়াও সম্ভব হয় না।

    অন্য সময় প্রাইম: কোনটা সুন্দর? প্রশ্রয় দেওয়া নাকি না দেওয়াটা?

    কৌশিক: প্রাপ্তি হচ্ছে ওই বুকের কষ্টটাই। ওই যে ব্যথাটুকু লাগল, কাউকে ব্যক্ত করা হলো না ওইটা একটা খুব ভালো গানের সমতুল্য। কিংবা একটা ভালো সাহিত্যের সমতুল্য। জীবনের বাইরে আমাদের কিছু দিতে পারে না। আসলে প্রাক্তন সব সময়ে স্থায়ী হয়ে যায়। বর্তমানে তো অনেক কিছু হারানোর আছে, প্রাক্তনের কিছু হারানোর থাকে না। আমার মনে হয়, সহাবস্থান ভীষণ প্রয়োজন। গ্রেস যেন না হারিয়ে যায়।

    অন্য সময় প্রাইম: কী ভাবে নারী চরিত্রকে এত সূক্ষ্ম ভাবে পর্দায় তুলে ধরেছেন বারবার?

    কৌশিক: পর্দায় নারী চরিত্রের অঙ্কন আমার অন্যতম পছন্দের কাজ। কারণ মহিলা পরিচালক কম। মহিলাদের কথা কিন্তু পুরুষরাই বলেন। সাহিত্যেও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই এ বিষয়ে আমার কোনও ভেদাভেদ কখনও ছিল না।

    অন্য সময় প্রাইম: চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো অভিনেত্রীকে ইন্ডাস্ট্রি কি ঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারল না ?

    কৌশিক: এই উত্তর যদি আমি দিই, তা হলে চূর্ণীর স্বামী হিসেবে দেব, এটাই মানুষ ধরে নেবেন। এই প্রশ্নটার মতো বিব্রত আমি কোনও প্রশ্নে হই না। ‘অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তি পেয়েছিল ২০২৩-এ। তার পরে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-র মতো একটি ছবি করে ফেলেছে চূর্ণী। সারা দেশে সুনাম হলো। তাই বলব, হ্যাঁ, আমার মনে হয় এটা ইন্ডাস্ট্রির দুর্ভাগ্য। শুধু চূর্ণীর কথা বলব না, এমন অনেক অভিনেত্রী আছেন, যেমন অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, দামিনী বেণী বসু, তাঁদের ব্যবহার কোথায়? জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পরেই যেন কাজ পাওয়া কমে যায়।

    অন্য সময় প্রাইম: উজান গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিও মুক্তি পাচ্ছে এই মাসেই। বাড়িতে কম্পিটিশন রয়েছে?

    কৌশিক: কোনও কম্পিটিশন নেই। কারণ, হারা–জেতা তো নেই। উজান জিতলেও আমি জিতব, আবার আমি জিতলেও উজান জিতবে।
  • Link to this news (এই সময়)