বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে নিহত অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার রাতে তাকে অকুস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, সেই সময়েই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর সদস্য রনি সরকারের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে গুলি ছুড়েছিল প্রভাস। সেই সময়ে নিজের এবং সহকর্মীদের প্রাণ বাঁচাতেই পাল্টা গুলি ছোড়েন সিটের সদস্য অর্ঘ্য মণ্ডল। এমনই দাবি পুলিশের।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার পরে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রভাসকে। সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হতেই ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কেলের ইনচার্জ রনির সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নেয় অভিযুক্ত। তদন্তাকারীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে এক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও পালানোর চেষ্টা করে। সেই সময়ে প্রভাসকে নিরস্ত করতেই গুলি চালাতে হয় অর্ঘ্যকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৪ সালের ব্যাচের পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন (পিসি ইনচার্জ)। এর আগে তিনি জয়নগর, সোনারপুর ও কুলতলি থানাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। এক সময়ে বারুইপুর এসওজি-র ইনচার্জ হিসেবেও কাজ করেছেন।
রনিও ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে। গত বিধানসভা ভোটের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের হাতে। সেই সময়ে বকুলতলা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রনি। পুলিশ সূত্রে খবর, কর্মজীবনে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বকুলতলা-সহ একাধিক থানায় কাজ করেছেন তিনি। কনস্টেবল হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করে পরে সাব-ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন রনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, অর্ঘ্যর ছোড়া গুলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে প্রভাস। তড়িঘড়ি তাঁকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বারুইপুর পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং নিয়ম মেনে তদন্তও শুরু হয়েছে।