বারুইপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে৷ জানা গিয়েছে, ক্রাইম সিন রি-কনস্ট্রাকশনের সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত৷ গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ, সেই গুলিতেই মৃত্যু প্রভাসের৷ তবে ছেলের মৃত্যুতে কষ্ট পেলেও অভিযুক্ত প্রভাসের মা জানালেন, নিজের কর্মের ফল পেয়েছে ছেলে৷ ছেলের দেহ আনতেও যাবেন না, জানিয়ে দিলেন তিনি৷
অভিযুক্ত প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, ‘‘মায়ের তো কষ্ট হবেই, কিন্তু ও যা কাজ করেছে তার ফল পেয়েছে৷ মেয়েটার উপরে যেভাবে অত্যাচার করেছে তাতে ওর মৃত্যু হয়েছে, ভালই হয়েছে৷ ওর মৃতদেহও আমি আনব না৷ ওকে আমি আর দেখতে চায় না৷ আমার কথা না শুনেই নেশা করত, এখন আর আমার কিছু বলার নেই৷
কীভাবে মৃত্যু হল নাবালিকা নির্যাতনে অভিযুক্ত প্রভাসের?
পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১২.৪৫ নাগাদ বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ৷ অভিযোগ, তখনই এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করেই পাল্টা গুলি করার চেষ্টা করে প্রভাস৷ এক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে সে৷
এর পর পাল্টা পুলিশও আত্মরক্ষায় গুলি চালায়৷ সেই গুলিতে আহত হয় প্রভাস মণ্ডল৷ সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ৷ সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷
জানা গিয়েছে, সূর্যপুরের ঝোপ জঙ্গল ঘেরা একটি নির্জন এলাকাতেই গত শনিবার রাতে ওই নাবালিকার উপরে নির্যাতন চালানো হয়েছিল৷ মঙ্গলবার রাতে সেখানেই অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যায় পুলিশ৷ যেহেতু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়েছে, তাই গভীর রাতেই অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে দাবি৷
বারুইপুরের সূর্যপুরের যে জায়গায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি কার্যত জনমানবশূন্য৷ কাদা মাটি মাখা সরু পথ দিয়ে জঙ্গলে ঘেরা এই জায়গায় আসতে হয়৷ গোটা এলাকাটি জলাজমিতে ঘেরা৷ পাশেই রয়েছে রেল লাইন৷ গভীর রাতে এখান থেকে পালিয়ে পাশের পেয়ারা বাগান অথবা জঙ্গলে ঢুকে পড়লে কাউকে খুঁজে পাওয়ায়ও মুশকিল৷ ঘটনাস্থল এই মুহূর্তে ঘিরে রেখেছে পুলিশ৷
বারুইপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার দেহ রবিবার সকালে পুকুর থেকে থেকে উদ্ধার করার সময়ই ধরা পড়ে গিয়েছিল অভিযুক্ত প্রভাস৷ নাবালিকার দেহ কোথায় আছে, তা দেখিয়ে দিয়েছিল সে৷ প্রভাস দাবি করেছিল, ওই নাবালিকাকে বুঝিয়ে নিয়ে আসার জন্য তাকে দশ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার এবং তার সঙ্গীরা৷