অন্ধকারেও অব্যর্থ নিশানা! কার গুলিতে নিকেশ প্রভাস? চিনে নিন সেই পুলিশ অফিসারকে
News18 বাংলা | ০৮ জুলাই ২০২৬
বারুইপুরে নাবালিকার নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছিল বারুইপুর জেলা পুলিশ৷ মঙ্গলবার রাতে সেই সিট-এর তদন্তকারী অফিসাররা এবং বারুইপুর থানার একটি দল মিলে ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে নিয়ে যায়৷
কিন্তু বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ি থেকে নামানোর সময়ই ধৃত প্রভাস সিট-এর সদস্য ক্যানিং থানার সাব ইনস্পেক্টর রনি সরকারের কোমরে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ৷ শুধু আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়াই নয়, বেপরোয়া প্রভাস পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ৷
অন্ধকারের মধ্যে সেই সময় যা কিছু ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল৷ বেপরোয়া হয়ে ওঠা প্রভাসকে নিরস্ত করতে না পারলে পুলিশকর্মীদের আহত হওয়ার আশঙ্কা ছিলই৷ শুধু তাই নয়, ঘটনার অন্যতম মূল সাক্ষী এবং অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস কয়েক মুহূর্ত সময় পেলেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে দিত৷
এই পরিস্থিতিতে প্রভাসকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালান ঘটনাস্থলে থাকা সিট-এর আর এক সদস্য এবং বারুইপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর অর্ঘ্য মণ্ডল৷ সেই গুলি লাগে প্রভাসের শরীরে৷ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে৷ সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ৷ সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷
প্রভাস মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার দেহের খোঁজ মিলেছিল৷ পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত প্রভাস মণ্ডল বারবারই বয়ান বদল করে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল৷ সেই কারণেই তাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ৷
ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রভাস মণ্ডলের দেহের ইনকোয়েস্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে৷ এর পর তার দেহের ময়নাতদন্ত হবে৷ এনকাউন্টারে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে গাইডলাইন রয়েছে, তা মেনেই বাকি আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে পুলিশ৷